পাকা আম – পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশী ফল 0 1861

পাকা আমের পুষ্টিগুন

চলছে আমের মৌসুম। আর পছন্দের তালিকায় সবারই কমবেশি আম পছন্দ। কাঁচা ও পাকা আম উভয়ই যেমন মজাদার, ঠিক তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। স্বাদে গন্ধে ভরা এই ফলটি সংরক্ষণ করে রাখা যায় বিভিন্ন উপায়ে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমের শরবত বা জুস, মোরব্বা, আচার, জ্যাম, জেলি, আমসত্ব ইত্যাদি।

কাঁচা/ পাকা আমে আছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ ইত্যাদি। নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর আম, যা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগাতেও সহায়তা করে। এর পুষ্টি উপাদান শরীরের নানাভাবে শক্তি যুগিয়ে ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে মানবদেহ সুস্থ রাখতে সহায়ক।

ক্যারোটিনের মাত্রা পাকা আমে বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এতে ১.৩ গ্রাম আয়রন, ১৪ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ১৬ মি.গ্রা. ফসফরাস, ১৬ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ০.৯ মি.গ্রা. রিভোফ্লেভিন এবং ০.০৮ মি.গ্রা. থায়ামিন থাকে। এছাড়াও পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-২। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.১ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১ ও ০.০৭ মি.গ্রা. বি-২ রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ থাকে। এতে কিছু পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। যেমন- প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ১ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৭ গ্রাম ফ্যাট থাকে। আম শ্বেতসারের ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ২০ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা

* আমের ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে।

* এর পটাশিয়াম রক্ত স্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে।

* ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করে, হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে।

* কার্বোহাইড্রেট কর্মশক্তি যোগায়।

* আম কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

* আমের আয়রন অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।

* আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি।

* এই ফলের আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে।

* পাকা আম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের দেশী ফল যেমন, পাকা আম খাওয়া ঠিক নয়, এটা ভুল ধারণা। পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে পাকা আম খেতে পারেন।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনেক খেলেও ওজন বাড়ায় না যেসব খাবার 0 533

ওজন না বাড়ানোর খাবার

যারা ওজন কম রাখতে চান, সাধারণত তারা কম খান। তবে কম খাওয়া মানেই ওজন কম রাখা নয় কিংবা বেশি খেলেই ওজন বেড়ে যাবে-এমন কোনো কথা নেই। কিছু খাবার আছে যা প্রচুর পরিমাণে খেলেও আপনার ওজন বাড়বে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যা প্রচুর খেলেও আপনার ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

পালং শাক : পালং শাক শীতকালের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে আয়রন, জিংক এবং ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ রয়েছে। শাকটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পালং শাকে আয়রন, ফলিত এবং অন্য পুষ্টি উপাদান ত্বক, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক।

গাজর : গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের সুস্থতা এবং দৃষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালীন এই সবজিতে ক্যালরির পরিমাণ কম, ফাইবার সমৃদ্ধ এবং অন্যান্য পুষ্টিতে ভরপুর। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে গাজর।

পপকর্ন : ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক চমৎকার খাবার পপকর্ন। প্রতি কাপ পপকর্নে মাত্র ৩০ ক্যালরি থাকে এবং এটি পলিফেনলস নামে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।  এটি হজমক্রিয়া ঠিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

সবুজ ডাল : সবুজ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী। এ ছাড়া এটি ফলিত, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি১, ফসফরাস, আয়রন কপার, পটাশিয়াম এবং জিংকে ভরপুর। এগুলো ত্বকের স্বাস্থ্য, হজমক্রিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগের জন্য উপকারী।

আপেল : বিদেশি ফল হলেও আপেল খুবই সহজলভ্য। এটি বিভিন্নভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর গন্ধ ক্ষুধা দমন করে।আপেলে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা দ্রুত হজমে সহায়ক এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে ও ওজন কমানোর উপায় ডায়েট চার্ট মেনে চললে ওজন থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, শরীর থাকবে সুস্থ।

আরও পড়ুনঃ<< ১০ মিনিট এই উপায়ে দড়ি লাফালেই কমবে মেদ

বগলের দুর্গন্ধ কমানোর সহজ উপায় 0 774

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়

শরীরে বা বগলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে? সুগন্ধি সাবান বা শাওয়ার জেল দিয়ে গোসল করেও বগলের দুর্গন্ধ যাচ্ছে না? বাইরে বের হলেই ব্যাগে মোবাইল, হেডফোনের পাশাপাশি পকেট ডিওডোরেন্ট রাখা একান্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে? তবে কেন এই দুর্গন্ধ হচ্ছে আর কীভাবে তা দূর করা যায় সে বিষয়ে জানা একান্ত জরুরি। শরীর কিংবা বগলের গন্ধ কমানোর উপায় জেনে নেয়া যাক এখনই। 

যে কারণে বগলে দুর্গন্ধ হয় :

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গায়ে গন্ধ তৈরি হওয়া, বিশেষ করে বগলে গন্ধ হওয়া একটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এটি পিউবার্টির সময় শুরু হয়ে চলে আজীবন। তবে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়াটা একটা সমস্যা। শরীরে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে বিও এনজাইম। এই বিও এনজাইম এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকে। আর এই ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে আমাদের বাহুমূলে। সে কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। নানা রকম পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেও সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ গেলেও তা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না।

যা করলে বগলে দুর্গন্ধ থাকবে না:

আপনি যে খাবার খাচ্ছেন, সমস্যা তাতেই রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, আপনি যা খাচ্ছেন সেখান থেকে যৌগ ভেঙ্গে সরলীকরণ হয়, সেই পদ্ধতিতে সমস্যা থাকছে। খাবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকলে অনেকের গায়ে দুর্গন্ধ হয়। রেড মিট, ডিম, পেঁয়াজ, ব্রকোলি, রসুন ইত্যাদি খবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকে।

সব খাবারে আলাদা আলাদা রকম ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ সব খাবার খেলে নানা রকমের গন্ধ তৈরি হয়। ঘাম উৎপাদক সোয়েট গ্ল্যান্ডের ব্যাকটেরিয়াল ব্রেক ডাউনের ফলে দুর্গন্ধ হয়। এই ধরণের খাবার খেতে হলে খাওয়ার পরপর বেশি করে পানি খান। গায়ের গন্ধ দূর করতে আরো কিছু বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

১. বেশি অ্যালকোহল পান করলে আপনার স্বেদ গ্রন্থি অ্যাসিডিক হয়ে যায়। এর ফলে গায়ে দুর্গন্ধ হয়। যাদের গায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয়, তারা এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। অনেক সমস্য অতিরিক্ত মদ্যপানে মাইগ্রেন বা মাথাত পিছনে ব্যথাও হতে পারে।

২. মানসিক ভাবে উদ্বিগ্ন থাকলে দেহের অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই গ্রন্থি মানুষের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। এর ফলে সৃষ্ট স্ট্রেস দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং মানসিক চাপ বেশি নেবেন না।

৩. বয়ঃসন্ধিতে অনেকের শরীরেই দুর্গন্ধের সমস্যা হয়। কিন্তু অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও সমস্যা চলতে থাকলে বুঝতে হবে বড় কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের অনেক সময় গায়ে দুর্গন্ধ হয়।

এছাড়াও পড়ুনঃ শীতকালেও কি জুতা-মোজা পরলে পায়ে গন্ধ করে?

৪. অনেক সময় দেখা যায় পেট ভরে না খেলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। তাই পুষ্টিপূর্ণ করার দিকে নজর দিন।

স্মার্টনেসের জন্য আপনাকে হতে হবে দুর্গন্ধ মুক্ত। বগলের গন্ধ কমানোর উপায় গুলো মেনে চলে হয়ে যান সুপার স্মার্ট আজই।