পাকা আম – পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশী ফল 0 2497

পাকা আমের পুষ্টিগুন

চলছে আমের মৌসুম। আর পছন্দের তালিকায় সবারই কমবেশি আম পছন্দ। কাঁচা আম ও পাকা আম উভয়ই যেমন মজাদার, ঠিক তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। স্বাদে গন্ধে ভরা এই ফলটি সংরক্ষণ করে রাখা যায় বিভিন্ন উপায়ে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমের শরবত বা জুস, মোরব্বা, আচার, জ্যাম, জেলি, আমসত্ব ইত্যাদি।

কাঁচা/ পাকা আমে আছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ ইত্যাদি। নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর আম, যা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগাতেও সহায়তা করে। এর পুষ্টি উপাদান শরীরের নানাভাবে শক্তি যুগিয়ে ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে মানবদেহ সুস্থ রাখতে সহায়ক।

পাকা আমে কি কি উপদান আছে?

ক্যারোটিনের মাত্রা পাকা আমে বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এতে ১.৩ গ্রাম আয়রন, ১৪ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ১৬ মি.গ্রা. ফসফরাস, ১৬ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ০.৯ মি.গ্রা. রিভোফ্লেভিন এবং ০.০৮ মি.গ্রা. থায়ামিন থাকে। এছাড়াও পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-২। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.১ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১ ও ০.০৭ মি.গ্রা. বি-২ রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ থাকে। এতে কিছু পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। যেমন- প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ১ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৭ গ্রাম ফ্যাট থাকে। আম শ্বেতসারের ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ২০ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা

আমের পুষ্টিগুন

* আমের ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে।

* এর পটাশিয়াম রক্ত স্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে।

* ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করে, হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে।

* কার্বোহাইড্রেট কর্মশক্তি যোগায়।

* আম কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

* আমের আয়রন অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।

* আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি।

* এই ফলের আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে।

* দেশী আম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের দেশী ফল যেমন, পাকা আম খাওয়া ঠিক নয়, এটা ভুল ধারণা। পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে পাকা আম খেতে পারেন।

খালি পেটে পাকা আম খাওয়া যাবে?
পাকা আমেও কিন্তু কৃত্রিম শর্করা থাকে। সকালে জলখাবারের সঙ্গে আম খাওয়া যাবে না। খালি পেটে আমের মতো মিষ্টি ফল খেলে তা এক লাফে রক্তে শর্করার পরিমাণ অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই জালখাবার খাওয়ার বেশ কিছু ক্ষণ পর বা বিকেলে আম খাওয়া যেতে পারে।

পাকা আম বেশি পরিমানে খেলে কি হয়?
অনেক বেশি পরিমাণে দেশী আম খেলে কিছু সমস্যাও হতে পারে। আমে চিনি ও ক্যালরি বেশি থাকার কারণে আপনার ওজন বাড়তে থাকবে। যেমন ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৬০ ক্যালরি আছে, ১ কেজিতে ৬০০, ৪ কেজিতে ২ হাজার ৪০০ ক্যালরি, যা হয়তো আপনার সারা দিনে শরীরের মোট ক্যালরির সমান।

Previous Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ধুমপায়ীর ঠোটের কালো দাগ দূর করার উপায় 0 285

ঠোটের কালো দাগ দূর করার উপায়

ধূমপান এটি বদঅভ্যাস। ধূমপানের অভ্যাসের ফলে শ্বাসনালী বা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সাথে সাথে আরো নানা রকম জটিল রোগ শরীরে বাসা বাধে। মূলত ধূমপানের ফলে ঠোঁট কালো হয়ে যায়। যারা ধূমপান করেন তাদের বেশির ভাগেরই ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়ে যায়। যার ফলে ধুমপায়ীরা ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার উপায় খুঁজতে থাকেন।

ঠোটের কালো দাগ দূর করার উপায়

ধুমপায়ীদের মধ্যে ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার উপায় জানার প্রবণতা আছে। সেই সাথে যেকোন মূল্যে নিজেদের আকর্ষনীয় করে তুলতে চান প্রতিনিয়ত। কালো দাগ দূর করে ছেলেদের/ মেয়েদের ঠোঁট গোলাপি করার উপায় জেনে নেই এক নজরেঃ

লেবু-চিনি

লেবুর পাতলা একটি টুকরোর উপরে খানিকটা চিনি ছড়িয়ে দিয়ে রোজ ঠোঁটে মালিশ করুন। চিনি এখানে স্ক্র্যাবের কাজ করবে। চিনি ঠোঁটের মরা চামড়াগুলোকে ঘষে তুলে দিতে সাহায্য করে। আর লেবু ঠোঁটের কালো হয়ে যাওয়া চামড়াকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটা কালো ঠোঁট গোলাপি করার সহজ উপায়।

গ্লিসারিনলেবুর রস

লেবুর রসের সঙ্গে খানিকটা গ্লিসারিন মিশিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুবার করে ঠোঁটে মাখুন। দিন দশেকের মধ্যেই উপকার চোখে পড়বে। এটা ঠোঁট কালো দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম।

মধু-চিনি-বাদাম তেল

মধু, চিনি আর বাদামের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি দিয়ে নিয়মিত ঠোঁটে মালিশ করুন। এই মিশ্রণ আপনার ঠোঁটের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার কোমলতাও বাড়াবে।

টমেটোর রস

প্রতিদিন অন্তত দু’বার করে টমেটোর রস ঠোঁটে মাখুন। এতে আপনার ঠোঁট উজ্জ্বল হবে। কমে যাবে ঠোটের কালচে দাগ এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই।

চিনি-মধু

মধুর আর চিনির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিনিট দশেক আলতোভাবে ঠোঁটে মাখুন। এই মিশ্রণ আপনার ঠোঁটকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

দুধ-টক দই

ঠোঁটকে উজ্জ্বল করতে ল্যাকটিক অ্যাসিড খুবই উপকারী। দুধ বা টক দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড। দুধ বা টক দই তুলোয় নিয়ে প্রতিদিন অন্তত দু’বার করে ঠোঁটে মালিশ করুন। এটি ঠোঁটের মরা চামড়াগুলোকে ঘষে তুলে দিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতেও সাহায্য করে।

প্রাকৃতিকভাবেই ঠোটের কালো দাগ দূর করার উপায় বের করা উচিত। ঠোঁট গোলাপি করার ঔষধ, ঠোঁট গোলাপি করার ক্রিম কিংবা ঠোঁট গোলাপি করার লিপবাম সহ অনেক কিছুই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক ভাবেই চিকিৎসা নেয়ার দিকেই ডাক্তারদের পরামর্শ থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

আরো পড়ুনঃ অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান

চা খাওয়ার উপকারিতা – এক কাপ সুস্থতার পানীয় 0 302

চা খাওয়ার উপকারিতা

চা, বিশ্বব্যাপী প্রিয় এক পানীয়, শুধু তার স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা দ্বারা বিখ্যাত। এই পোস্টে, আমরা চা খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো।

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
চা বিশেষ করে সবুজ চা ও কালো চা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলি থেকে রক্ষা করে এবং বয়সের প্রভাব হ্রাস করে।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
চা খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদস্পন্দনের সামঞ্জস্য বজায় রাখে।

৩. মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতি
চায়ে থাকা ক্যাফেইন ও থিয়ানিন মানসিক সতেজতা ও ফোকাস বাড়ায়। এটি মানসিক ক্লান্তি কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

৪. ওজন হ্রাসে সাহায্যকারী
বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত চা পান ওজন হ্রাসে সাহায্য করে। বিশেষ করে সবুজ চা মেটাবলিজমে উন্নতি ঘটায় এবং ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

৫. পাচন প্রক্রিয়া উন্নতি
চা পাচন তন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নতি সাহায্য করে। এর প্রাকৃতিক উপাদান পেটের সমস্যা যেমন অম্বল ও বদহজম নিরাময়ে সাহায্য করে।

৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
চায়ে থাকা বিভিন্ন উপাদান ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এটি সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সাধারণ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

চা খাওয়ার অপকারিতা – সাবধানতা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা

চা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি পানীয়, কিন্তু অতিরিক্ত বা অনিয়মিত ভাবে চা পানের কিছু অপকারিতা রয়েছে। চা পানের অপকারিতা সম্পর্কে জানা এবং এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সঠিক মাত্রা ও সঠিক সময়ে চা পান করলে, এর অপকারিতা এড়িয়ে চলা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সচেতনতা ও সাবধানতা অপরিহার্য।

১. অতিরিক্ত ক্যাফেইনের সমস্যা

চা, বিশেষ করে কালো চা ও সবুজ চা, ক্যাফেইন সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ হৃদস্পন্দন বাড়াতে, অনিদ্রা, মাথা ব্যথা, এবং চিন্তা-উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

২. হজমের সমস্যা

খালি পেটে চা পান অম্বল ও পেটের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। চায়ের ট্যানিন অম্লীয়তা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা পেটের সমস্যা সৃষ্টি করে।

৩. লৌহ শোষণে বাধা

চা খাওয়ার ফলে লৌহের শোষণে বাধা দেয়, বিশেষ করে যদি খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরে চা পান করা হয়। এটি আয়রন ঘাটতির সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৪. হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব

কিছু গবেষণা বলছে যে অতিরিক্ত চা পান হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে, যা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার

অনেকে চায়ে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশান, যা ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৬. দাঁতের উপর প্রভাব

চা পান দাঁতের উপর দাগ ফেলতে পারে এবং এর অ্যাসিডিক প্রকৃতি দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।

সংক্ষেপ

চা খাওয়ার উপকারিতা অসীম। এটি শুধু এক কাপ পানীয় নয়, বরং এক কাপ সুস্থতা। তাই, আসুন আমরা এই অসাধারণ পানীয়কে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নিই এবং এর উপকারিতাগুলি উপভোগ করি।

এছাড়া বিশেষভাবে লাল চা, চিনি ছাড়া চা, রঙ চা, লিকার চা, দুধ চা সহ নানাবিধ চা বাংলাদেশের মানুষ পান করে থাকে। সবাই আসলে চা খাবার আগে চা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বিবেচনা করে চা পান করেন না। এটা অনেকটা পছন্দের উপর নির্ভর করে।