তালমাখনা খাওয়ার উপকারিতা ও ভেষজ গুণাবলি 0 2250

তালমাখনা

আমরা সবাই কি তালমাখনার উপকারিতা ও ভেষজ গুনাবলি সম্পর্কে জানি? তালমাখনা গাছ থেকে পাওয়া বীজ সেবন করলে বিভিন্ন শারীরিক দুর্বলতা নিরাময় করা যায়।

তালমাখনা গাছঃ তালমাখনা একটি অতি উৎকৃষ্ট ভেষজ ওষুধ। তালমাখনা (Talmakhana) গাছ সাধারনত ৫০ সে.মি. থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। এটির  কান্ড হতে বহু শাখা-প্রশাখা বের হয়। ফুল উজ্জ্বল বেগুনী লাল কিংবা বেগুনী সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। বীজ ছোট, গোলাকৃতির, দেখতে অনেকটা তিলের মত, তবে বীজের বর্ণ গাড় খয়েরী। বীজগুলো পানিতে ভিজালে চট চটে কিংবা লোদ বের হয়।

জেনে নেই তালমাখনা সম্পর্কিত কিছু মূল্যবান তথ্য

  • প্রচলিত নামঃ কুলেখাড়া
  • ইউনানী নামঃ তালমাখনা
  • আয়ুর্বেদিক নামঃ কোকিলাক্ষা
  • ইংরেজি নাম: Star Thorn
  • বৈজ্ঞানিক নামঃ Hygrophyla auriculata (Sch.) Heyne
  • বৈজ্ঞানিক পরিবারঃ Acanthaceae

তালমাখনা কোথায় পাওয়া যায়ঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন নিম্নভূমি অঞ্চলে যেখানে বছরের কিছু সময়ের জন্য পানি থাকে সেখানে পাওয়া যায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ অগ্রহায়ন – পৌষ মাসে ফুল ও ফল হয়। বীজ থেকে চারা হয়।

তালমাখনার রাসায়নিক উপাদানঃ ভূ-উপরিস্থ অংশে অ্যালকালয়েড, ফাইটোস্টেরল, স্টিগমাস্টেরল, লুপিয়ল, উদ্বায়ী তেল ও হাইড্রোকার্বন; ফুলে এপিজেনিন এবং বিচিতে তেল ও এনজাইম বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ কুলেখাড়া বীজ।

তালমাখনা এর ভেষজ গুণাবলি

  • তালমাখনা গুনাগুনঃ পুষ্টিকারক, শুক্রবর্ধক, প্রফুল্লতা আনয়নকারক। লিউকোরিয়া, শুক্রমেহ, যৌনদুর্বলতা ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায়।
  • তালমাখনার বিশেষ কার্যকারিতাঃ হজমকারক, বায়ু নিঃসারক, পাকস্থলীর ব্যথা নিবারক।

বিশেষ রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতি

  • রোগ: দেহের পুষ্টি সাধন ও সাধারন দুর্বলতা
    ব্যবহার্য অংশঃ বীজচূর্ণ
    মাত্রাঃ ৩ গ্রাম
    খাওয়ার নিয়মঃ তালমাখনা বীজ চূর্ণের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ শতমূলী চূর্ণ মিশিয়ে দুধসহ প্রত্যহ সকালে খালিপেটে এবং রাত্রে শয়নকালে সেব্য।
  • রোগ: শুক্রমেহ ও লিউকোরিয়া
    ব্যবহার্য অংশঃ বীজচূর্ণ
    মাত্রাঃ ৩ গ্রাম
    খাওয়ার নিয়মঃ চূর্ণের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ তেঁতুল বীজ চূর্ন মিশিয়ে প্রত্যহ ২ বার দুধসহ সেব্য।
  • রোগ: যৌন ও স্নায়ুবিক দুর্বলতা
    ব্যবহার্য অংশঃ বীজচূর্ণ
    মাত্রাঃ ৩ গ্রাম
    খাওয়ার নিয়মঃ  চূর্ণের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ অশ্বগন্ধা চূর্ণ ও ৩ চা চামচ মধু মিশিয়ে প্রত্যহ ২ বার সেব্য।

তালমাখনা খাওয়ার নিয়মঃ থাকতে হবে সতর্কও

তালমাখনা নির্দিষ্ট মাত্রার অধিক সেবন করা সমীচীন নয়। কারণ, এতে পেটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

তালমাখনা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। মানবদেহের জন্য অতি উপকারী তালমাখানার দামও কিন্তু খুব বেশি না, বাংলাদেশের প্রায় সকল জনপ্রিয় অনলাইন শপিং মলেই তালমাখানা পাওয়া যায়, আর অর্ডার করে ঘরে বসেই নিতে পারেন তালমাখনা হোম ডেলিভারি।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাইগ্রেনঃ মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার 0 431

মাইগ্রেন

মাথাব্যথা মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। আর আমাদের চারপাশে মাথাব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যা অধিক। মাথাব্যথা মূলত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি – এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রাথমিক মাথাব্যথা হলো সেগুলো, যা অন্য কোনো রোগের কারণে হয় না। প্রাথমিক মাথাব্যথার মধ্যে আছে মাইগ্রেন, টেনশন মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক, ট্রাইজিমিনাল অটোমেটিক সেফালালগিয়াস অন্যতম।

মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে সাধারণত ৪ থেকে ৭১ ঘণ্টা ধরে মাথায় ব্যথা হতে থাকে। এ ব্যথার অনুভব অনেকটা ছুরিকাঘাতের মতো। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে আছে বমি বমি ভাব। এ ব্যথার সঙ্গে আলো ও শব্দের সংবেদনশীলতার সম্পর্ক আছে। কাজেই মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কম আলোময় ও শব্দহীন জায়গায় থাকতে পারলে আরাম পাওয়া যায়।

গবেষকেরা মনে করেন, মাইগ্রেন অ্যাটাকের কারণ হলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। আবার জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যে কারণগুলোর জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, নারীদের হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুম হওয়া, মদ্যপান, ধুমপান কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

মাইগ্রেন প্রতিকার ও খাদ্যাভাস পরামর্শ

আমাদের জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আনলে মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে মাইগ্রেন প্রতিকার করা সম্ভব।

কখনো সকালের নাশতা অবহেলা করা যাবে না, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না, প্রতিবেলা সুষম খাবার খেতে হবে এবং প্রতিদিন শরীর ও চোখের ব্যায়াম করতে হবে।

কাঠবাদাম, কাঠবাদামের দুধ, পার্সলিপাতা, মৌরি, রসুন, আদা ও তাজা আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রতিদিন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, রিবোফ্লোবিন (ভিটামিন বি২), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায়ঃ বাদ দিতে হবে কিছু খাবার

অ্যামাইনো অ্যাসিড টাইরামিনযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে- প্রসেস করা মাংস, মাখন, হার্ড চিজ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, এভোকাডো, কলা, পাকা আম, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, টমেটো, রাসবেরি, চকলেট, রেড প্লাম, ইস্ট, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।

অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার এবং অ্যাসিডিটি তৈরি হয়, সে রকম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ধারণা করা হয় যে অ্যাসিডিটির সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার গভীর সম্পর্ক আছে। অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান আপনি নিজে নিজেই করে ফেলে মাইগ্রেন থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

এই ৫ প্রকার সবজিতে কমবে শরীরের ওজন, ফিট থাকবে শরীর 0 493

যেসব সবজী ওজন কমায়

অতিরিক্ত ওজন নানা রোগের কারণ। তাই বর্তমানে ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য অনেকেই খাবার গ্রহণে বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু এই নিয়ম মানতে গিয়ে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে দিলে চলবে না। শরীর সুস্থ রাখতে হলে পুষ্টির বিকল্প নেই।

আর এজন্য স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে গেলে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে শাক-সবজির ওপর। এমন পাঁচটি সবজি রয়েছে যেগুলো অতিরিক্ত ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক।

১। পালংশাক: এই সবুজ সবজি নানা ধরনের পুষ্টিগুণে ঠাসা। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাসিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে। পালংশাকে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। পালংশাক শুধু যে ওজন কমাতে সহায়তা করে তাই নয়, টাইপ- ২ ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ এবং যেকোনও ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়।

২। ব্রোকোলি: ব্রোকোলিকে নিউট্রিয়েন্ট পাওয়ারহাউস বলা যেতে পারে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং আয়রন রয়েছে। ব্রোকলিতে আছে প্রচুর ফাইবার এবং ক্যালোরি কাউন্ট বেশ কম। সেই কারণে ওজন কমাতে অত্যন্ত উপকারী এই সবজি।

৩। ক্যাপসিকাম: এর মধ্যে আছে ভিটামিন সি, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন ই, বি৬ এবং ফলিত। ক্যাপসিকাম রান্না করা বেশ সহজ এবং এটি সহজেই অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়। রঙিন এই সবজিতে পানির পরিমাণও বেশি। ক্যাপসিকাম আমাদের মেটাবলিজমের হার বাড়ায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪। টমেটো: টমেটোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লাইকোপিন। টমেটো ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। পাশাপাশি নিয়মিত টমেটো খেলে বহু ক্রনিক অসুখের থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। আপনি তরকারিতে টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি করেন, এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর।

৫। মিষ্টি আলু: দুটো বড় মিলের মাঝে হালকা কিছু খেতে হলে স্ন্যাক হিসেবে আলু দারুণ উপকারী। মিষ্টি আলুতে প্রচুর ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্ব আছে। এটি ত্বকের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী। গোল আলুর বদলে আপনি মিষ্টি আলু খেতে পারেন।

Most Popular Topics

Editor Picks