ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ২০২৩ 0 617

ডেঙ্গু

ডেঙ্গু বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পীড়াদায়ক রোগের একটি। এই জ্বরে আক্রান্ত একদিকে যেমন দূর্বল হয়ে পড়ে অন্যদিকে এর রেশ শরীরে থেকে যায় দীর্ঘদিন। আগে ডেঙ্গু বড় কোন প্রাণঘাতি রোগ না থাকলেও ২০২৩ সালে এসে সারা বাংলাদেশেই ডেঙ্গু হয়ে উঠেছে করোনার মতই বিপজ্জনক। তবে বিশ্রাম ও নিয়ম মাফিক চললে ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার এবং ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার।

ডেঙ্গু জ্বর কখন ও কাদের বেশি হয়?
মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টাতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু/ এডিস মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে। সাধারণত শহর অঞ্চলে অভিজাত এলাকায়, বড় বড় দালান কোঠায় এই মশার প্রাদুর্ভাব বেশি, তাই ডেঙ্গু জ্বরও এই এলাকার বাসিন্দাদের বেশি হয়। তবে ইদানীংকালে বস্তিতে বা গ্রামে বসবাসরত লোকজনেরও ডেঙ্গু হয়। ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ কে কোনভাবেই হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিকার ও চিকিৎসা
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ তীব্র হলে বাসায় চিকিৎসা করার সুযোগ নেই। এমন রোগীদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা নিতে হবে। তীব্র ডেঙ্গুতে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, রোগীর অভ্যন্তরীণ অঙ্গ থেকে শুরু হতে পারে রক্তক্ষরণ। দ্রুত রক্তের অণুচক্রিকা (প্লাটিলেট) কমে যেতে পারে। সাধারণ ডেঙ্গুর কোনো নির্ধারিত চিকিৎসা নেই। কারও ডেঙ্গু হলে করণীয়: পূর্ণ বিশ্রাম; পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান। শরবত, ফলের রস, স্যুপ, ডাবের পানি, স্যালাইন পান; জ্বর বা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল; অ্যাসপিরিন, আইবোপ্রোফেন কিংবা ব্যথা–বেদনানাশক ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না। এগুলো ডেঙ্গুর রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডেঙ্গু জ্বর সেরে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর যদি শরীর আরও বেশি খারাপ হতে থাকে, তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে; রক্ত পরীক্ষা করে অণুচক্রিকার এবং হেমাটোক্রিটের পরিমাণ জেনে নিতে হবে; রক্তের অণুচক্রিকা কমতে থাকলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে; অণুচক্রিকা ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে কিংবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্ত দিতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নঃ

# ডেঙ্গু জ্বর কি ছোঁয়াচে রোগ?

না। ডেঙ্গু ছোঁয়াচে রোগ নয়।

# ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে?

সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর ৩ থেকে ৬ দিন থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

# ডেঙ্গু জ্বর হলে কি গোসল করা যাবে?

জ্বর কমাতে কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন অথবা ব্যথানাশক এনএসএইড গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। ওষুধ ছাড়াও জ্বর কমাতে মাথায় পানি ঢালা, শরীর মুছে দেওয়া অথবা রোগীকে গোসল করাতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ

>> অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান <<
>> মাইগ্রেনঃ মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার <<

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ডায়াবেটিক খাদ্যাভ্যাসের ৪ টি প্রচলিত ভুল ধারণা 2 430

wrong idea of food habit

ডায়াবেটিস হলে শুরুতেই খাবারদাবারের ব্যাপারে আশপাশ থেকে অনেকেই সচেতন করতে থাকেন যেন এই রোগে আক্রান্ত হলে সুস্বাদু সব খাবার থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে কিন্তু ব্যাপারটি সেরকম নয়। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কিছু প্রচলিত ধারণা আছে যার অধিকাংশই ভুল।

চিনি ডায়াবেটিসের কারণ: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে চিনি ডায়াবেটিসের কারণ নয়। তবে বেশি চিনিযুক্ত খাবারে সাধারণত ক্যালরি থাকে যা ওজন বাড়িয়ে তুলে ঝুঁকির কারণ হতে পারে তাই চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

<<যেসব খাবার খেলেও ওজন বাড়ে না>>

বিশেষ খাবার প্রয়োজনঃ সবার মত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের সুষম খাদ্য বজায় রাখতে সচেষ্ট হওয়া উচিত। তাদের জন্য সব সময় পৃথক খাবার প্রস্তুত করার প্রয়োজন নেই। সুষম খাবার হলো স্বাস্থ্যকর চর্বি, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য দানা, চর্বিযুক্ত প্রোটিন ইত্যাদি। এগুলো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। লো-গ্লাইসেমিকযুক্ত খাবার খেতে হবে। এগুলো শরীরে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে।

<<যেসব সবজী খেলে মেদ কমবেই>>

প্রোটিন রক্তে সুগার বাড়ায় নাঃ প্রোটিন একটি অত্যন্ত তৃপ্তিকারী ম্যাক্রো-নিউট্রিয়েন্ট, যা আপনাকে খাওয়া-দাওয়ায় পরিপূর্ণ বোধ করাতে সহায়তা করে। এমনকি উচ্চ প্রোটিন ডায়েট ওজন কমাতে পারে। তবে পেশী বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত না হলে ক্যালরিতে রূপান্তরিত হয়, যা ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে। বেশি প্রোটিন খাওয়ার দিকে মনোনিবেশ করার পরিবর্তে সুষম খাবার খাওয়ার দিকে মনোনিবেশ করুন।

<<রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা খাওয়া জরুরী>>

শর্করা একেবারে বাদ দেয়াঃ না খেয়ে থাকা ডায়াবেটিক রোগীদের হাইপো-গ্লাইসেমিয়ার একটি লক্ষণ। শর্করা আপনার বয়স, ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। এ জাতীয় খাবারের জন্য জটিল শর্করার পাশাপাশি বেশি আঁশযুক্ত খাবারের দিকে মনোযোগ দিন।

পরিশেষে, সঠিক তথ্য জেনে ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকুন, যাপন করুন সুস্থ স্বাভাবিক জীবন।

আরো পড়ুনঃ মেদ কমাতে দড়ি লাফ

পাকা আম – পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশী ফল 0 2332

পাকা আমের পুষ্টিগুন

চলছে আমের মৌসুম। আর পছন্দের তালিকায় সবারই কমবেশি আম পছন্দ। কাঁচা আম ও পাকা আম উভয়ই যেমন মজাদার, ঠিক তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। স্বাদে গন্ধে ভরা এই ফলটি সংরক্ষণ করে রাখা যায় বিভিন্ন উপায়ে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমের শরবত বা জুস, মোরব্বা, আচার, জ্যাম, জেলি, আমসত্ব ইত্যাদি।

কাঁচা/ পাকা আমে আছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ ইত্যাদি। নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর আম, যা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগাতেও সহায়তা করে। এর পুষ্টি উপাদান শরীরের নানাভাবে শক্তি যুগিয়ে ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে মানবদেহ সুস্থ রাখতে সহায়ক।

পাকা আমে কি কি উপদান আছে?

ক্যারোটিনের মাত্রা পাকা আমে বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এতে ১.৩ গ্রাম আয়রন, ১৪ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ১৬ মি.গ্রা. ফসফরাস, ১৬ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ০.৯ মি.গ্রা. রিভোফ্লেভিন এবং ০.০৮ মি.গ্রা. থায়ামিন থাকে। এছাড়াও পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-২। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.১ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১ ও ০.০৭ মি.গ্রা. বি-২ রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ থাকে। এতে কিছু পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। যেমন- প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ১ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৭ গ্রাম ফ্যাট থাকে। আম শ্বেতসারের ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ২০ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা

আমের পুষ্টিগুন

* আমের ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে।

* এর পটাশিয়াম রক্ত স্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে।

* ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করে, হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে।

* কার্বোহাইড্রেট কর্মশক্তি যোগায়।

* আম কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

* আমের আয়রন অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।

* আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি।

* এই ফলের আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে।

* দেশী আম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের দেশী ফল যেমন, পাকা আম খাওয়া ঠিক নয়, এটা ভুল ধারণা। পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে পাকা আম খেতে পারেন।

খালি পেটে পাকা আম খাওয়া যাবে?
পাকা আমেও কিন্তু কৃত্রিম শর্করা থাকে। সকালে জলখাবারের সঙ্গে আম খাওয়া যাবে না। খালি পেটে আমের মতো মিষ্টি ফল খেলে তা এক লাফে রক্তে শর্করার পরিমাণ অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই জালখাবার খাওয়ার বেশ কিছু ক্ষণ পর বা বিকেলে আম খাওয়া যেতে পারে।

পাকা আম বেশি পরিমানে খেলে কি হয়?
অনেক বেশি পরিমাণে দেশী আম খেলে কিছু সমস্যাও হতে পারে। আমে চিনি ও ক্যালরি বেশি থাকার কারণে আপনার ওজন বাড়তে থাকবে। যেমন ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৬০ ক্যালরি আছে, ১ কেজিতে ৬০০, ৪ কেজিতে ২ হাজার ৪০০ ক্যালরি, যা হয়তো আপনার সারা দিনে শরীরের মোট ক্যালরির সমান।