চোখ ভাল রাখবে এই ৪টি চোখের ব্যায়াম 0 531

চোখের ব্যায়াম

চোখের ব্যায়াম যে কত প্রয়োজনীয় সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই তেমন কোন ধারণা নেই। চোখের নানা খুঁটিনাটি সমস্যাকে বেশিরভাগ মানুষই তেমন গুরুত্ব দেন না। দিনের বেশ খানিকটা সময় টিভি, কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের পর চোখের কোণে হালকা চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হয়। এ ছাড়াও চোখ চুলকানো, চোখ ব্যথা হওয়া, চোখের ক্লান্তিবোধ এবং আরও নানা ধরণের ছোটোখাটো সমস্যায় কম-বেশি অনেকেই ভুগে থাকেন। তবে চোখের এই সব সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

চোখ এবং দৃষ্টিশক্তির সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে ৪টি সহজ চোখের ব্যায়াম। চলুন তাহলে নেওয়া যাক চোখের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত কার্যকর সহজ ব্যায়ামগুলো –

১. সাধারণত প্রতি ৩-৪ সেকেন্ড পর পর চোখের পাতা (পলক) ফেলা চোখের ছোটোখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। বিশেষ করে যখন এক টানা কম্পিউটার বা টিভির দিকে তাকিয়ে থাকার পর ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়াও টানা ১ মিনিট ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলা, একটি ব্যায়ামের মতো কাজ করে। এতে চোখ পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় আর দৃষ্টিশক্তিও ভাল থাকে।

২. প্রায় ১০-১৫ মিনিট দুহাতের তালু একটির সঙ্গে অপরটি ঘষে নিন। এতে হাতের তালুতে যে হালকা উষ্ণতা সৃষ্টি হবে তা নিয়ে হাত দুটো চোখ বন্ধ করে চোখের উপরে রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন, চোখের মণির অংশে জোরে চাপ দেবেন না। শুধু আলতো করে হাত রাখুন চোখের উপর। এ ভাবে দিনে ৩-৪ বার করবেন। উপকার পাবেন।

৩. চোখের সামনে একটি বড় গোলাকৃতি কল্পনা করে নিয়ে ওই আকৃতি অনুযায়ী চোখ ঘোরাতে থাকুন। একবার ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে আর একবার ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে। এমন ভাবে অন্তত ৪ বার করে দুই অভিমুখেই চোখ ঘোরান। এর পর অন্তত ৪-৫ সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে রাখুন। বড় বড় করে বুক ভরে শ্বাস নিন। দিনে ২ বার করে এই ব্যায়াম করুন। এটি চোখের পেশি ভাল রাখতে সহায়তা করে।

৪. অন্তত ৬ থেকে ১০ মিটার (২৫-৩০ ফুট) দূরের কোনো একটি নির্দিষ্ট বস্তুর দিকে এক দৃষ্টিতে কিছু ক্ষণ তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করুন। এটিও চোখের একটি ভাল ব্যায়াম। এতে দৃষ্টিশক্তির প্রখরতা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়াও নিজের হাত মুঠ করে বুড়ো আঙুল সোজা করে তুলে ধরে সামনের দিকে ছড়িয়ে আঙুলের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার ব্যায়ামটিও করতে পারেন। এতেও একই কাজ হবে।

সুতরাং, এই চারটি চোখের ব্যায়াম নিয়মিত করুন আর সুস্থ রাখুন অন্যতম ইন্দ্রিয়টিকে, বৃদ্ধি করুন চোখের জ্যোতি।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাইগ্রেনঃ মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার 0 297

মাইগ্রেন

মাথাব্যথা মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। আর আমাদের চারপাশে মাথাব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যা অধিক। মাথাব্যথা মূলত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি – এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রাথমিক মাথাব্যথা হলো সেগুলো, যা অন্য কোনো রোগের কারণে হয় না। প্রাথমিক মাথাব্যথার মধ্যে আছে মাইগ্রেন, টেনশন মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক, ট্রাইজিমিনাল অটোমেটিক সেফালালগিয়াস অন্যতম।

মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে সাধারণত ৪ থেকে ৭১ ঘণ্টা ধরে মাথায় ব্যথা হতে থাকে। এ ব্যথার অনুভব অনেকটা ছুরিকাঘাতের মতো। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে আছে বমি বমি ভাব। এ ব্যথার সঙ্গে আলো ও শব্দের সংবেদনশীলতার সম্পর্ক আছে। কাজেই মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কম আলোময় ও শব্দহীন জায়গায় থাকতে পারলে আরাম পাওয়া যায়।

গবেষকেরা মনে করেন, মাইগ্রেন অ্যাটাকের কারণ হলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। আবার জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যে কারণগুলোর জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, নারীদের হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুম হওয়া, মদ্যপান, ধুমপান কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

মাইগ্রেন প্রতিকার ও খাদ্যাভাস পরামর্শ

আমাদের জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আনলে মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে মাইগ্রেন প্রতিকার করা সম্ভব।

কখনো সকালের নাশতা অবহেলা করা যাবে না, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না, প্রতিবেলা সুষম খাবার খেতে হবে এবং প্রতিদিন শরীর ও চোখের ব্যায়াম করতে হবে।

কাঠবাদাম, কাঠবাদামের দুধ, পার্সলিপাতা, মৌরি, রসুন, আদা ও তাজা আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রতিদিন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, রিবোফ্লোবিন (ভিটামিন বি২), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায়ঃ বাদ দিতে হবে কিছু খাবার

অ্যামাইনো অ্যাসিড টাইরামিনযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে- প্রসেস করা মাংস, মাখন, হার্ড চিজ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, এভোকাডো, কলা, পাকা আম, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, টমেটো, রাসবেরি, চকলেট, রেড প্লাম, ইস্ট, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।

অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার এবং অ্যাসিডিটি তৈরি হয়, সে রকম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ধারণা করা হয় যে অ্যাসিডিটির সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার গভীর সম্পর্ক আছে। অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান আপনি নিজে নিজেই করে ফেলে মাইগ্রেন থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

যে ৫টি ভুল হানিমুনে গিয়ে প্রত্যেক পুরুষই করেন! 0 559

হানিমুনে গিয়ে করা ভুল

হানিমুনে তো মানুষ একবারই যায়। আর যেহেতু হানিমুন মাত্রই একদম আনকোরা নতুন একটা অভিজ্ঞতা, তাই কিছু ভুল করে ফেলেন কমবেশি সকল পুরুষই। যারা দ্বিতীয় বিয়ে করেন তাঁদের ব্যাপার আলাদা, তবে বিয়ের পর হানিমুনে যাওয়া নিয়ে নার্ভাস থাকেন সব ছেলেই। কেননা প্রথম হানিমুন এমন একটা জিনিস যে কাজে অভিজ্ঞতা অর্জনের কোন সুযোগ নেই। তাই জেনে রাখুন এমন ৫টি ভুল, যেগুলো হানিমুনে গিয়ে করে থাকেন প্রায় সব পুরুষ।

যৌন সম্পর্কের জন্য তাড়াহুড়া করা
হানিমুন মানে কেবল যৌন সম্পর্ক নয়। বরং নিরিবিলি একান্ত সময়ে পরস্পরকে জেনে ও বুঝে নেয়ার জন্যই হানিমুন। তাই হানিমুনে গিয়ে স্ত্রীকে যৌন সম্পর্কের জন্য পীড়াপীড়ি করবেন না। এতে তাঁর চোখে আপনার অবস্থান অনেক নিচে নেমে যাবে।

স্ত্রীর অতীত নিয়ে অযথা খোঁচাখুঁচি করা
অতীতে যা ছিল, সেটা অতীতেই ছিল। এখন আপনারা বিবাহিত দম্পতি, এখন আর অতীত নিয়ে টেনে লাভ নেই। বিয়ের আগে যখন অতীত ঝামেলা করেনি, তাহলে এখন কেন অতীতকে ডেকে আনা?

বেশিরভাগ সময় হোটেলেই থাকতে চাওয়া
জীবনে প্রথম যৌনতার আনন্দ উপভোগ করছেন ভালো কথা। কিন্তু তারমানে এই নয় যে সারাটা সময় কেবল বসে থাকবেন হোটেলের রুমে। বরং স্ত্রীকে নিয়ে বেড়ান, ছবি তুলুন। সুন্দর সময় উপভোগ করুন।

মন জয়ের চেষ্টা না করা
বিয়ে করেছেন বলেই কিন্তু তাঁর মন পেয়ে যান নি। বরং প্রেমের বিয়ে হলেও সদ্য মা-বাবা-পরিবারকে ছেড়ে এসে সব মেয়েরই মন খারাপ লাগে। চেষ্টা করুন স্ত্রীর মন জয় করে নিতে। তাঁকে এত ভালোবাসা দিতে যেন বাড়ির কথা মনে না পড়ে।

কিপটামি করা
একবারই তো হানিমুনে যাবেন, অযথা কিপটামি করে কেন মুড নষ্ট করা? বরং জীবনের এই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় রাখতে সাধ্যের মাঝে সবটুকু খরচ করুন।

Most Popular Topics

Editor Picks