কালোজিরার উপকারিতা ও ওষধি গুনাগুন 0 2592

কালোজিরার উপকারিতা

কালোজিয়া শুধু ছোট ছোট কালো দানা নয়, এর মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাস্য ঐশ্বরিক শক্তি। প্রাচীনকাল থেকেই কালোজিরা মানবদেহের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক। শুধু এখানেই শেষ নয়, কালোজিরা চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্ক্রিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি এবং মস্তিষ্ক শক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়ায়। এ ছাড়া অনেকে গোপন শক্তি বাড়াতে যৌন চিকিৎসকের কাছে যান ও ভায়াগ্রা কিংবা যৌন শক্তিবর্ধক ঔষধ সেবন করেন! তাদেরকে বলছি আজ থেকে আর নয় ভায়াগ্রা, এক চামুচ কালোজিরাই যথেষ্ট। কারণ কালোজিরায় যৌন ক্ষমতা অপরিসীম। শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতেই নয়, আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসাতেও কালোজিরার ব্যবহার হয়। কালোজিরার বীজ থেকে একধরণের তেল তৈরি হয়, যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

যা আছে কালোজিরায় – কালোজিরার উপাদানঃ
কালোজিরায় রয়েছে-ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বো-হাইড্রেট ছাড়াও জীবাণুনাশক বিভিন্ন উপাদান। কালোজিরায় ক্যান্সার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হরমোন, প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান, পাচক এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক।

এবার জেনে নিই কালোজিরার উপকারিতাঃ

১. পেট খারাপ সমস্যা সমাধানঃ নিয়মিত পেট খারাপের সমস্যা থাকলে কালোজিরা সামান্য ভেজে গুঁড়ো করে ৫০০ মিলিগ্রাম হারে ৭-৮ চা চামচ দুধে মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে সাত দিন ধরে খেলে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে কালোজিরা। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোনও জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

৩. হাপানি সমস্যার সমাধানঃ যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা দূর করে।

৪. ঠান্ডা সমস্যার সমাধানঃ প্রচণ্ড সর্দি হয়ে মাথা যন্ত্রণা হচ্ছে? এ ক্ষেত্রে কালোজিরা পুঁটলিতে বেঁধে শুঁকতে হবে। তবে পুঁটলিতে নেওয়ার আগে তা রগড়ে নিতে হবে। তাতে গন্ধ বের হয় এবং উপকার হয়।

৫. মাথাব্যাথার উপশমঃ প্রচন্ড মাথা ব্যথা? কালোজিরে বেটে কপালে প্রলেপ দিলে ও মিহি গুঁড়োর নস্যি নিলে উপকার হয়। এটা তখন ঝান্ডু বামের মত কাজ করবে।

৬. চুলকানি উপশমঃ কালোজিরা ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানিতে উপকার হয়।

৭. ডায়াবেটিসের সমাধানঃ কালোজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। এতে করে কালোজিরা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে।

৮. স্মরণশক্তি ঠিক রাখাঃ স্মৃতিভ্রংশ ও স্মরণশক্তির দুর্বলতায় কালোজিরা খুবই কার্যকর।

৯. পেট ও প্রস্রাব পরিষ্কার রাখাঃ পরিমাণমতো কালোজিরা খেলে প্রস্রাব পরিষ্কার হয়।

১০. শিশুর মানসিক বৃদ্ধিঃ শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পাকা আম – পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশী ফল 0 4556

পাকা আমের পুষ্টিগুন

চলছে আমের মৌসুম। আর পছন্দের তালিকায় সবারই কমবেশি আম পছন্দ। কাঁচা আম ও পাকা আম উভয়ই যেমন মজাদার, ঠিক তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। স্বাদে গন্ধে ভরা এই ফলটি সংরক্ষণ করে রাখা যায় বিভিন্ন উপায়ে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমের শরবত বা জুস, মোরব্বা, আচার, জ্যাম, জেলি, আমসত্ব ইত্যাদি।

কাঁচা/ পাকা আমে আছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ ইত্যাদি। নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর আম, যা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগাতেও সহায়তা করে। এর পুষ্টি উপাদান শরীরের নানাভাবে শক্তি যুগিয়ে ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে মানবদেহ সুস্থ রাখতে সহায়ক।

পাকা আমে কি কি উপদান আছে?

ক্যারোটিনের মাত্রা পাকা আমে বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এতে ১.৩ গ্রাম আয়রন, ১৪ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ১৬ মি.গ্রা. ফসফরাস, ১৬ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ০.৯ মি.গ্রা. রিভোফ্লেভিন এবং ০.০৮ মি.গ্রা. থায়ামিন থাকে। এছাড়াও পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-২। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.১ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১ ও ০.০৭ মি.গ্রা. বি-২ রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ থাকে। এতে কিছু পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। যেমন- প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ১ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৭ গ্রাম ফ্যাট থাকে। আম শ্বেতসারের ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ২০ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

কাঁচা / পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা

আমের পুষ্টিগুন

* আমের ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে।

* এর পটাশিয়াম রক্ত স্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে।

* ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করে, হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে।

* কার্বোহাইড্রেট কর্মশক্তি যোগায়।

* আম কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

* আমের আয়রন অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।

* আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি।

* এই ফলের আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে।

* দেশী আম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের দেশী ফল যেমন, পাকা আম খাওয়া ঠিক নয়, এটা ভুল ধারণা। পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে পাকা আম খেতে পারেন।

খালি পেটে পাকা আম খাওয়া যাবে?
পাকা আমেও কিন্তু কৃত্রিম শর্করা থাকে। সকালে জলখাবারের সঙ্গে আম খাওয়া যাবে না। খালি পেটে আমের মতো মিষ্টি ফল খেলে তা এক লাফে রক্তে শর্করার পরিমাণ অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই জালখাবার খাওয়ার বেশ কিছু ক্ষণ পর বা বিকেলে আম খাওয়া যেতে পারে।

পাকা আম বেশি পরিমানে খেলে কি হয়?
অনেক বেশি পরিমাণে দেশী আম খেলে কিছু সমস্যাও হতে পারে। আমে চিনি ও ক্যালরি বেশি থাকার কারণে আপনার ওজন বাড়তে থাকবে। যেমন ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৬০ ক্যালরি আছে, ১ কেজিতে ৬০০, ৪ কেজিতে ২ হাজার ৪০০ ক্যালরি, যা হয়তো আপনার সারা দিনে শরীরের মোট ক্যালরির সমান।

এলাচ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 0 1574

এলাচ খাওয়ার উপকারিতা

এলাচ একটি জনপ্রিয় ও প্রাচীন মশলা, যা তার অপূর্ব সুগন্ধ এবং স্বাস্থ্যগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বাংলাদেশে এলাচ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে রান্না, পানীয় এবং ঔষধি হিসেবে। এই লেখায় আমরা এলাচ খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা এবং সম্ভাব্য অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব।

এলাচ খাওয়ার উপকারিতা:

  1. হজমশক্তি বৃদ্ধি: এলাচ পেটের সমস্যা, যেমন অম্লতা, গ্যাস এবং বদহজম নিরাময়ে সাহায্য করে।
  2. মুখের স্বাস্থ্য: এলাচের অ্যান্টিসেপটিক গুণাগুণ মুখের ব্যাকটেরিয়া দূরীকরণে এবং মুখের দুর্গন্ধ নির্মূলে কার্যকরী।
  3. শ্বাসকষ্ট নিরাময়: এলাচ শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ পরিষ্কার করে এবং হাঁপানির উপসর্গ হ্রাস করে।
  4. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: এলাচে উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং দীর্ঘায়ু প্রদান করে।

এলাচ খাওয়ার অপকারিতা:

  1. অত্যধিক ব্যবহারে সমস্যা: এলাচ অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেটের সমস্যা যেমন পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
  2. অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া: কিছু মানুষের এলাচের উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে, যা চুলকানি এবং ফুসকুড়ি হতে পারে।
  3. ড্রাগ ইন্টারেকশন: কিছু ঔষধের সাথে এলাচের মিশ্রণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস করে।

এলাচ খাওয়ার নিয়ম কানুনঃ

১. পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ:

এলাচ খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণ মেনে চলা উচিত। সাধারণত, প্রতিদিন ১ থেকে ২টি এলাচ পর্যাপ্ত হতে পারে। বেশি পরিমাণে এলাচ গ্রহণ করলে পেটে সমস্যা হতে পারে।

২. চা বা কফিতে ব্যবহার:

চা বা কফির সাথে এলাচ মিশিয়ে গ্রহণ করা একটি জনপ্রিয় উপায়। এটি পানীয়কে সুগন্ধি এবং স্বাদ বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করে।

৩. খাবারে মিশ্রণ:

বিভিন্ন ধরণের খাবার, যেমন বিরিয়ানি, কারি, ডেজার্ট ইত্যাদিতে এলাচ ব্যবহার করা যায়। এটি খাবারের স্বাদ ও গন্ধ উন্নত করে।

৪. এলাচের চা:

এলাচ দিয়ে তৈরি চা পান করা শরীরের জন্য উপকারী। এটি ঠান্ডা, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে সাহায্য করে।

৫. মুখের স্বাস্থ্যের জন্য:

মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এলাচ চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এবং দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

৬. মশলা মিশ্রণে যোগ:

এলাচ বিভিন্ন মশলা মিশ্রণের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমন গরম মশলা। এটি খাবারের গন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।

সংক্ষেপে:

এলাচ আমাদের দৈনন্দিন রান্নার এক অপরিহার্য উপাদান যা তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য স্বীকৃত। তবে এর সঠিক ব্যবহার এবং পরিমাণ নির্ণয় জরুরি। এলাচ খাওয়ার আগে, এর সম্ভাব্য অপকারিতা সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।