মাইগ্রেনঃ মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার 0 524

মাইগ্রেন

মাথাব্যথা মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। আর আমাদের চারপাশে মাথাব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যা অধিক। মাথাব্যথা মূলত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি – এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রাথমিক মাথাব্যথা হলো সেগুলো, যা অন্য কোনো রোগের কারণে হয় না। প্রাথমিক মাথাব্যথার মধ্যে আছে মাইগ্রেন, টেনশন মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক, ট্রাইজিমিনাল অটোমেটিক সেফালালগিয়াস অন্যতম।

মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে সাধারণত ৪ থেকে ৭১ ঘণ্টা ধরে মাথায় ব্যথা হতে থাকে। এ ব্যথার অনুভব অনেকটা ছুরিকাঘাতের মতো। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে আছে বমি বমি ভাব। এ ব্যথার সঙ্গে আলো ও শব্দের সংবেদনশীলতার সম্পর্ক আছে। কাজেই মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কম আলোময় ও শব্দহীন জায়গায় থাকতে পারলে আরাম পাওয়া যায়।

গবেষকেরা মনে করেন, মাইগ্রেন অ্যাটাকের কারণ হলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। আবার জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যে কারণগুলোর জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, নারীদের হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুম হওয়া, মদ্যপান, ধুমপান কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

মাইগ্রেন প্রতিকার ও খাদ্যাভাস পরামর্শ

আমাদের জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আনলে মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে মাইগ্রেন প্রতিকার করা সম্ভব।

কখনো সকালের নাশতা অবহেলা করা যাবে না, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না, প্রতিবেলা সুষম খাবার খেতে হবে এবং প্রতিদিন শরীর ও চোখের ব্যায়াম করতে হবে।

কাঠবাদাম, কাঠবাদামের দুধ, পার্সলিপাতা, মৌরি, রসুন, আদা ও তাজা আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রতিদিন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, রিবোফ্লোবিন (ভিটামিন বি২), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায়ঃ বাদ দিতে হবে কিছু খাবার

অ্যামাইনো অ্যাসিড টাইরামিনযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে- প্রসেস করা মাংস, মাখন, হার্ড চিজ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, এভোকাডো, কলা, পাকা আম, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, টমেটো, রাসবেরি, চকলেট, রেড প্লাম, ইস্ট, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।

অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার এবং অ্যাসিডিটি তৈরি হয়, সে রকম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ধারণা করা হয় যে অ্যাসিডিটির সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার গভীর সম্পর্ক আছে। অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান আপনি নিজে নিজেই করে ফেলে মাইগ্রেন থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনেক খেলেও ওজন বাড়ায় না যেসব খাবার 0 471

ওজন না বাড়ানোর খাবার

যারা ওজন কম রাখতে চান, সাধারণত তারা কম খান। তবে কম খাওয়া মানেই ওজন কম রাখা নয় কিংবা বেশি খেলেই ওজন বেড়ে যাবে-এমন কোনো কথা নেই। কিছু খাবার আছে যা প্রচুর পরিমাণে খেলেও আপনার ওজন বাড়বে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যা প্রচুর খেলেও আপনার ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

পালং শাক : পালং শাক শীতকালের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে আয়রন, জিংক এবং ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ রয়েছে। শাকটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পালং শাকে আয়রন, ফলিত এবং অন্য পুষ্টি উপাদান ত্বক, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক।

গাজর : গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের সুস্থতা এবং দৃষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালীন এই সবজিতে ক্যালরির পরিমাণ কম, ফাইবার সমৃদ্ধ এবং অন্যান্য পুষ্টিতে ভরপুর। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে গাজর।

পপকর্ন : ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক চমৎকার খাবার পপকর্ন। প্রতি কাপ পপকর্নে মাত্র ৩০ ক্যালরি থাকে এবং এটি পলিফেনলস নামে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।  এটি হজমক্রিয়া ঠিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

সবুজ ডাল : সবুজ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী। এ ছাড়া এটি ফলিত, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি১, ফসফরাস, আয়রন কপার, পটাশিয়াম এবং জিংকে ভরপুর। এগুলো ত্বকের স্বাস্থ্য, হজমক্রিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগের জন্য উপকারী।

আপেল : বিদেশি ফল হলেও আপেল খুবই সহজলভ্য। এটি বিভিন্নভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর গন্ধ ক্ষুধা দমন করে।আপেলে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা দ্রুত হজমে সহায়ক এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে ও ওজন কমানোর উপায় ডায়েট চার্ট মেনে চললে ওজন থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, শরীর থাকবে সুস্থ।

আরও পড়ুনঃ<< ১০ মিনিট এই উপায়ে দড়ি লাফালেই কমবে মেদ

বগলের দুর্গন্ধ কমানোর সহজ উপায় 0 686

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়

শরীরে বা বগলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে? সুগন্ধি সাবান বা শাওয়ার জেল দিয়ে গোসল করেও বগলের দুর্গন্ধ যাচ্ছে না? বাইরে বের হলেই ব্যাগে মোবাইল, হেডফোনের পাশাপাশি পকেট ডিওডোরেন্ট রাখা একান্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে? তবে কেন এই দুর্গন্ধ হচ্ছে আর কীভাবে তা দূর করা যায় সে বিষয়ে জানা একান্ত জরুরি। শরীর কিংবা বগলের গন্ধ কমানোর উপায় জেনে নেয়া যাক এখনই। 

যে কারণে বগলে দুর্গন্ধ হয় :

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গায়ে গন্ধ তৈরি হওয়া, বিশেষ করে বগলে গন্ধ হওয়া একটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এটি পিউবার্টির সময় শুরু হয়ে চলে আজীবন। তবে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়াটা একটা সমস্যা। শরীরে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে বিও এনজাইম। এই বিও এনজাইম এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকে। আর এই ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে আমাদের বাহুমূলে। সে কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। নানা রকম পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেও সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ গেলেও তা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না।

যা করলে বগলে দুর্গন্ধ থাকবে না:

আপনি যে খাবার খাচ্ছেন, সমস্যা তাতেই রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, আপনি যা খাচ্ছেন সেখান থেকে যৌগ ভেঙ্গে সরলীকরণ হয়, সেই পদ্ধতিতে সমস্যা থাকছে। খাবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকলে অনেকের গায়ে দুর্গন্ধ হয়। রেড মিট, ডিম, পেঁয়াজ, ব্রকোলি, রসুন ইত্যাদি খবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকে।

সব খাবারে আলাদা আলাদা রকম ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ সব খাবার খেলে নানা রকমের গন্ধ তৈরি হয়। ঘাম উৎপাদক সোয়েট গ্ল্যান্ডের ব্যাকটেরিয়াল ব্রেক ডাউনের ফলে দুর্গন্ধ হয়। এই ধরণের খাবার খেতে হলে খাওয়ার পরপর বেশি করে পানি খান। গায়ের গন্ধ দূর করতে আরো কিছু বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

১. বেশি অ্যালকোহল পান করলে আপনার স্বেদ গ্রন্থি অ্যাসিডিক হয়ে যায়। এর ফলে গায়ে দুর্গন্ধ হয়। যাদের গায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয়, তারা এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। অনেক সমস্য অতিরিক্ত মদ্যপানে মাইগ্রেন বা মাথাত পিছনে ব্যথাও হতে পারে।

২. মানসিক ভাবে উদ্বিগ্ন থাকলে দেহের অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই গ্রন্থি মানুষের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। এর ফলে সৃষ্ট স্ট্রেস দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং মানসিক চাপ বেশি নেবেন না।

৩. বয়ঃসন্ধিতে অনেকের শরীরেই দুর্গন্ধের সমস্যা হয়। কিন্তু অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও সমস্যা চলতে থাকলে বুঝতে হবে বড় কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের অনেক সময় গায়ে দুর্গন্ধ হয়।

এছাড়াও পড়ুনঃ শীতকালেও কি জুতা-মোজা পরলে পায়ে গন্ধ করে?

৪. অনেক সময় দেখা যায় পেট ভরে না খেলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। তাই পুষ্টিপূর্ণ করার দিকে নজর দিন।

স্মার্টনেসের জন্য আপনাকে হতে হবে দুর্গন্ধ মুক্ত। বগলের গন্ধ কমানোর উপায় গুলো মেনে চলে হয়ে যান সুপার স্মার্ট আজই।