১০ মিনিট এই উপায়ে দড়ি লাফালেই কমবে মেদ 0 1474

পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম

অফিস আদালতে প্রচুর কাজের চাপ, খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম, অধিক মাত্রায় জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে অনেকের শরীরে জমছে মেদ। অতিরিক্ত মেদ শরীরে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে। যেমনঃ হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ টু ডায়াবেটিস ইত্যাদি। প্রতিদিন ১০ মিনিট দড়ি লাফালেই কমবে শরীরের মেদ।

পেটের মেদ কমাতে দড়ি লাফ

ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন একটু সময় করে নিয়ম করে লাফ দড়ি বা স্কিপিং(Skipping) নিয়ে ঘাম ঝরালেই শরীরে বাড়তি মেদ কমে যাবে অনেকটাই। একটানা ৩৫ মিনিট হাঁটা বা বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে জগিং বা দৌড়ানোয় যতটা মেদ ঝরে তার চেয়েও বেশি মেদ ঝরে মিনিট ১০ লাফালে। আসলে পেটের মেদ কমাতে দড়ি লাফ একটি সেরা ব্যায়াম।

তবে প্রথম দিকে ১০ মিনিট একটানা লাফাতে না পারলেও ক্ষতি নেই। সপ্তাহ দুয়েক পর ধীরে ধীরে দড়ি লাফের সময় বাড়ান। স্কিপিংয়ের কতগুলো নির্দিষ্ট উপায় থাকে, যা জানলে তা অভ্যাস করা ও মেদ ঝরানোর কাজ অনেকটা সহজ হয়।

স্কিপিং

বেসিক জাম্প

লাফদড়িতে সাধারণত এ ভাবেই লাফানো অভ্যাস করেন সকালে। লাফদড়ি দু’হাতে নিয়ে এমন ভাবে লাফান, যাতে দড়িটি দু’পায়ের তলা দিয়ে গিয়ে মাথার উপর দিয়ে ঘুরে আসে।

অল্টারনেট ফুট স্টেপ

এ ক্ষেত্রে দু’পা জোড়া করে একসঙ্গে লাফানো যাবে না। এক বার ডান পায়ের নীচ দিয়ে দড়ি নিয়ে যেতে হবে। আর এক বার বাঁ পা দিয়ে একই পদ্ধতিতে লাফাতে হবে। দড়ির গতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পায়ের ছন্দ।

বক্সার স্টেপ

অল্টারনেট ফুট স্টেপের মতোই প্রত্যেক লাফে পা বদলাতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সেই লাফের উচ্চতাও বেশি হবে। আগে-পিছে দু’পায়ের মাঝে ফাঁক থাকবে বেশি। এই লাফ খুব দ্রুতলয়ে হয় না।

বক্সার স্টেপ

জাম্প রোপ ক্রিসক্রস

দু’হাতে লাফদড়ি নিয়ে এক বার স্বাভাবিকভাবে পায়ের তলা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পরের বার হাত ক্রশ করে সেই দড়ি পায়ের তলা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই লাফ একেবারেই সহজ নয়, এর জন্য অভ্যাস জরুরি।

আরও পড়ুনঃ ৪ টি চোখের ব্যায়াম ভাল রাখবে আপনার চোখ

ব্যাকওয়ার্ড জাম্পিং

এই ধরণের দড়ি লাফের বেলায় দড়ি মাথার উপর দিক থেকে পায়ের নীচে না এনে পায়ের নীচ থেকে ঘুরিয়ে মাথার উপরে আনতে হবে।

এছাড়াও আপনি যদি ছেলেদের কিংবা মেয়েদের স্কিপিং(skipping) বা দড়ি লাফের উপকারিতা(benefits) জেনে দড়ি লাফ শুরু করেন তবে আপনি মেদ কমানোর সাথে সাথে স্বাস্থ্যবানও হতে পারবেন।

দড়ি লাফের ক্ষতিকর দিক বা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

দড়ি লাফের উপকারিতা যেমন অনেক, ঠিক তেমনি দাড়ি লাফের কিছু ক্ষতিকর দিক বা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও আছে। সময় বা পরিস্থিতি ভেদে একটু সতর্ক হওয়াও প্রয়োজন। অসুস্থ শরীরে, কিংবা গর্ভাবস্থায় মেয়েদের জন্য দড়ি লাফের মত শারিরীক অনুশীলন পরিহার করা উত্তম। এ সময় স্কিপিং বা দড়িলাফ দিলে মেয়েদের জরায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা থেকে যায়।

সঠিক উপায়ে দড়ি লাফ দিয়ে থাকুন স্বাস্থ্যবান, জীবন যাপন হোন স্বাচ্ছন্দ্যময় আর মনের মত।

Summary
Previous Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনেক খেলেও ওজন বাড়ায় না যেসব খাবার 0 533

ওজন না বাড়ানোর খাবার

যারা ওজন কম রাখতে চান, সাধারণত তারা কম খান। তবে কম খাওয়া মানেই ওজন কম রাখা নয় কিংবা বেশি খেলেই ওজন বেড়ে যাবে-এমন কোনো কথা নেই। কিছু খাবার আছে যা প্রচুর পরিমাণে খেলেও আপনার ওজন বাড়বে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যা প্রচুর খেলেও আপনার ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

পালং শাক : পালং শাক শীতকালের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে আয়রন, জিংক এবং ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ রয়েছে। শাকটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পালং শাকে আয়রন, ফলিত এবং অন্য পুষ্টি উপাদান ত্বক, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক।

গাজর : গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের সুস্থতা এবং দৃষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালীন এই সবজিতে ক্যালরির পরিমাণ কম, ফাইবার সমৃদ্ধ এবং অন্যান্য পুষ্টিতে ভরপুর। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে গাজর।

পপকর্ন : ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক চমৎকার খাবার পপকর্ন। প্রতি কাপ পপকর্নে মাত্র ৩০ ক্যালরি থাকে এবং এটি পলিফেনলস নামে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।  এটি হজমক্রিয়া ঠিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

সবুজ ডাল : সবুজ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী। এ ছাড়া এটি ফলিত, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি১, ফসফরাস, আয়রন কপার, পটাশিয়াম এবং জিংকে ভরপুর। এগুলো ত্বকের স্বাস্থ্য, হজমক্রিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগের জন্য উপকারী।

আপেল : বিদেশি ফল হলেও আপেল খুবই সহজলভ্য। এটি বিভিন্নভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর গন্ধ ক্ষুধা দমন করে।আপেলে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা দ্রুত হজমে সহায়ক এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে ও ওজন কমানোর উপায় ডায়েট চার্ট মেনে চললে ওজন থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, শরীর থাকবে সুস্থ।

আরও পড়ুনঃ<< ১০ মিনিট এই উপায়ে দড়ি লাফালেই কমবে মেদ

বগলের দুর্গন্ধ কমানোর সহজ উপায় 0 774

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়

শরীরে বা বগলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে? সুগন্ধি সাবান বা শাওয়ার জেল দিয়ে গোসল করেও বগলের দুর্গন্ধ যাচ্ছে না? বাইরে বের হলেই ব্যাগে মোবাইল, হেডফোনের পাশাপাশি পকেট ডিওডোরেন্ট রাখা একান্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে? তবে কেন এই দুর্গন্ধ হচ্ছে আর কীভাবে তা দূর করা যায় সে বিষয়ে জানা একান্ত জরুরি। শরীর কিংবা বগলের গন্ধ কমানোর উপায় জেনে নেয়া যাক এখনই। 

যে কারণে বগলে দুর্গন্ধ হয় :

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গায়ে গন্ধ তৈরি হওয়া, বিশেষ করে বগলে গন্ধ হওয়া একটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এটি পিউবার্টির সময় শুরু হয়ে চলে আজীবন। তবে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়াটা একটা সমস্যা। শরীরে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে বিও এনজাইম। এই বিও এনজাইম এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকে। আর এই ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে আমাদের বাহুমূলে। সে কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। নানা রকম পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেও সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ গেলেও তা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না।

যা করলে বগলে দুর্গন্ধ থাকবে না:

আপনি যে খাবার খাচ্ছেন, সমস্যা তাতেই রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, আপনি যা খাচ্ছেন সেখান থেকে যৌগ ভেঙ্গে সরলীকরণ হয়, সেই পদ্ধতিতে সমস্যা থাকছে। খাবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকলে অনেকের গায়ে দুর্গন্ধ হয়। রেড মিট, ডিম, পেঁয়াজ, ব্রকোলি, রসুন ইত্যাদি খবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকে।

সব খাবারে আলাদা আলাদা রকম ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ সব খাবার খেলে নানা রকমের গন্ধ তৈরি হয়। ঘাম উৎপাদক সোয়েট গ্ল্যান্ডের ব্যাকটেরিয়াল ব্রেক ডাউনের ফলে দুর্গন্ধ হয়। এই ধরণের খাবার খেতে হলে খাওয়ার পরপর বেশি করে পানি খান। গায়ের গন্ধ দূর করতে আরো কিছু বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

১. বেশি অ্যালকোহল পান করলে আপনার স্বেদ গ্রন্থি অ্যাসিডিক হয়ে যায়। এর ফলে গায়ে দুর্গন্ধ হয়। যাদের গায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয়, তারা এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। অনেক সমস্য অতিরিক্ত মদ্যপানে মাইগ্রেন বা মাথাত পিছনে ব্যথাও হতে পারে।

২. মানসিক ভাবে উদ্বিগ্ন থাকলে দেহের অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই গ্রন্থি মানুষের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। এর ফলে সৃষ্ট স্ট্রেস দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং মানসিক চাপ বেশি নেবেন না।

৩. বয়ঃসন্ধিতে অনেকের শরীরেই দুর্গন্ধের সমস্যা হয়। কিন্তু অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও সমস্যা চলতে থাকলে বুঝতে হবে বড় কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের অনেক সময় গায়ে দুর্গন্ধ হয়।

এছাড়াও পড়ুনঃ শীতকালেও কি জুতা-মোজা পরলে পায়ে গন্ধ করে?

৪. অনেক সময় দেখা যায় পেট ভরে না খেলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। তাই পুষ্টিপূর্ণ করার দিকে নজর দিন।

স্মার্টনেসের জন্য আপনাকে হতে হবে দুর্গন্ধ মুক্ত। বগলের গন্ধ কমানোর উপায় গুলো মেনে চলে হয়ে যান সুপার স্মার্ট আজই।