জামায়াত কি তবে শক্তি গুছিয়ে ফেলেছে? 0 3642

জামায়াত ইসলামী

দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ
নিপীড়নের মধ্যেও শক্তি সঞ্চয় করেছে জামায়াত

চলতি বছরের জুন মাসে জামায়াতে ইসলামী রাজধানী ঢাকায় একটি সমাবেশ করেছিল। নিউজ ফুটেজে দেখা যায়, সেখানে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দলটির প্রথম কোনো সমাবেশ। সমাবেশটি কঠিন এক বার্তা দিয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের চাপে থেকে, নিপীড়নের শিকার হয়েও দলটি টিকে আছে।

জামায়াত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে সংগঠিত ইসলামী রাজনৈতিক দল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটি পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছিল। দলটির বেশ কয়েকজন নেতা যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)- এর সাবেক নির্বাচনী মিত্র জামায়াত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর, বিরোধী দলগুলোকে বিশেষ করে জামায়াতকে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল এবং ১৫ বছর ধরে তা চলমান আছে।


৭১’র যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর চালানো ভয়াবহ সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নামের একটি ‘ডমেস্টিক কোর্ট’ গঠন করে। আইসিটির তদন্ত অনুযায়ী, পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক অপরাধ চালানোর জন্য জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিলেন। আইসিটি জামায়াত নেতাদের দোষী সাব্যস্ত করে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড দেয়।

প্রক্রিয়াগত ত্রুটির জন্য প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ওই বিচারের সমালোচনা করে। আইসিটি’র ট্রায়াল এবং নেতাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়া জামায়াতকে কঠিনভাবে আঘাত করে। দলটি বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হারায়। এ ছাড়াও, আইসিটি দ্বারা দোষী সাব্যস্ত জামায়াতের দুই নেতার ছেলেকে ‘জোরপূর্বক গুম করা হয়’। তাদের একজন মীর আহমেদ বিন কাসেম। তার পিতা প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী প্রথমে আইসিটি দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, পরে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। অন্যজন, সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। তার পিতা জামায়াতের সাবেক প্রধান গোলাম আযম। আইসিটি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল, পরে তিনি মারা যান। আজও ওই ছেলেদের হদিস কেউ জানে না। যদিও সরকারি বাহিনী তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে পরিবারগুলোর অভিযোগ।


আইসিটি’র বিচার এবং নিজেদের নেতাদের রায়ের বিরুদ্ধে সহিংস প্রতিবাদ করতে গিয়ে জামায়াত এবং দলটির ছাত্র সংগঠন-ইসলামী ছাত্রশিবির পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের অনেক কর্মীকে হারিয়েছে। জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে তাদের প্রায় ২৪০ জন কর্মী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে নিহত হয়েছেন। জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজারের বেশি এবং ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে সাড়ে ৯ হাজার মামলা রয়েছে। নারীসহ দলটির ৯০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। দ্য ডিপ্লোম্যাট স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি। জামায়াতের অনেক কর্মী স্থানীয়ভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন। অনেকেই ইউরোপ, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে নির্বাসনে রয়েছেন।

উপরন্তু, হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ দিলে দলটির ওপর দিয়ে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যায়। আওয়ামী লীগের মিত্র তরীকত ফেডারেশনের দায়েরকৃত একটি রিট পিটিশনের পর এই রায় দেয়া হয়। বলা হয়েছিল, ‘জামায়াত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না’। জামায়াতকে নির্বাচন করতে বাধা দেয়া হয়। সংগঠন এবং কার্যক্রমের উপর সুসজ্জিত আক্রমণের পরও জামায়াত টিকে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। জুনের সমাবেশ দেখিয়েছে যে, দলটি এখনো বিশাল সমাবেশ এবং বিক্ষোভ সংগঠিত করার ক্ষমতা রাখে।

পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে জামায়াতের রুকন বা স্থায়ী সদস্য সংখ্যা ২৩,৮৬৩ থেকে তিন গুণ বেড়ে ৭৩,০৪৬ হয়েছে। অন্য কথায়, নিপীড়নের মধ্যেও জামায়াত উন্নতি লাভ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্কলার এবং দলটির একজন রুকন বা স্থায়ী সদস্য নকিবুর রহমান। তিনি দ্য ডিপ্লোম্যাটকে বলেন, “জামায়াত একটি আদর্শভিত্তিক দল। আর তাই, ক্রমাগত নিপীড়নে থেকেও দলটি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে না’। নকিবুর জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে, দলটির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
জামায়াত বিষয়ে গবেষকরা দলটির টিকে থাকার কৌশলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। দলটি তার রাজনৈতিক কর্মকা-কে কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছে, মানুষকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দলে যোগদানে আহ্বান জানানোর পরিবর্তে ‘দাওয়াহ’কে প্রসারিত করেছে এবং ধর্মীয় পথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পথ বেছে নিয়েছে। নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকতে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে দলের কর্মীরাও সদা তৎপর।

জামায়াতের দলীয় ওয়েবসাইট বলছে যে, তারা বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে আল্লাহ্ নির্ধারিত এবং নবী মুহাম্মদের দেখানো ইসলামী জীবনবিধি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। যার ফলস্বরূপ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি পরকালেও মুক্তি পাওয়া যাবে।’ দলীয় সংবিধান বলছে ‘দলটি শৃঙ্খলামূলক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করবে এবং দলের পক্ষে জনমত গঠনের প্রচেষ্টা চালাবে।’

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার কথা বাংলাদেশের অনেকেই ভুলে যান নি। সমালোচকদের অভিযোগ- দলটি সংখ্যালঘু বিরোধী এবং সহিংসতা ছড়ায়, হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দলটি সহিংসতা ছড়ায়। জামায়াত নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে গোঁড়া বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে, কেবল মুসলমানরাই দলটির সদস্য হতে পারেন এবং দলটি মনে করে কোনো নারী রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবেন না। যদিও, জামায়াত ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ বিষয়টি স্বীকার করে না। নকিবুর বলেন, ‘মুসলমান হিসেবে আমাদের বিশ্বাস, সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব।’ দলটির বর্তমান নেতারা নিজেদের (দলের) আগের অবস্থান থেকে (বিশেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ বিষয়ে) দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।

ডিডাব্লিউ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের বলেছেন, ২০২৩ সালের জামায়াত অতীতের চেয়ে আলাদা। তাহের বলেন, ‘হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, জামায়াত, আওয়ামী লীগ, বিএনপি সহ সমগ্র জাতির জন্যই ১৯৭১ গর্বের এক বিষয়।’ যদিও তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানকে সহযোগিতার জন্য ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত থাকেন, যেটি জামায়াতের সমালোচকদের দীর্ঘদিনের দাবি। সম্ভবত, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াতের বক্তব্যের পরিবর্তনটি কৌশলগত।

২০২০ সালে, জামায়াতের বেশ কয়েকজন কর্মী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি গঠনের জন্য দল ছাড়েন। এবি পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামান ফুয়াদের মতে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ছিল বিভক্তির মূল বিষয়। দ্য ডিপ্লোম্যাটকে তিনি বলেন, যারা এবি পার্টি গঠনের জন্য জামায়াত ত্যাগ করেছিলেন তারা মনে করেন জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া, নারী ও সংখ্যালঘুদের বড় বড় পদে নিতে উৎসাহিত করে দলকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এবং রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা করা প্রয়োজন।

যদিও এবি পার্টির কারণে জামায়াত খুব বেশি সমর্থন হারায়নি, তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের বিষয়ে দলটির বক্তব্যের পরিবর্তন আরও বিভক্তিকে ঠেকানোর লক্ষ্যে হতে পারে। আঞ্চলিকভাবে ভারত জামায়াতের ঘোরবিরোধী। প্রবীণ ভারতীয় সাংবাদিক এস.এন.এম. আবদি যেমন বলেছেন, “একের পর এক বিভিন্ন ভারতীয় সরকার জামায়াতকে পাকিস্তানের প্রক্সি, আরও নির্দিষ্টভাবে বললে আইএসআই (পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা)-এর পুতুল ভিন্ন অন্য কিছু মনে করে নি।”

লন্ডনের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের সিনিয়র লেকচারার অবিনাশ পালিওয়াল দ্য ডিপ্লোম্যাটকে বলেন, “বাংলাদেশের ইসলামপন্থিদের জন্য জামায়াতের রক্ষণশীল ভিত্তি এবং মতাদর্শিক সহায়তাকে নয়াদিল্লি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। আদর্শগত এবং নিরাপত্তা-সম্পর্কিত উভয় কারণেই ভারতের পক্ষে এই ধরনের দলকে ধারণ করা কঠিন। যার কারণে (ভারত) প্রায়ই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে থাকে, এমনকি বাংলাদেশের নির্বাচনী স্বচ্ছতার মূল্য দিয়ে হলেও।”

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের ‘আধিপত্য বিস্তার প্রচেষ্টার’ নিন্দা জানিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতকে খুশি করছে বলে অভিযোগ করেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের নির্বাচনের আগে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে সম্পৃক্ততার প্রকৃতি সম্পর্কে অনুমান করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই দল দুটি মিত্র। উভয় পক্ষের সূত্র বলছে, ভবিষ্যতে (পারস্পরিক) সহযোগিতার বিষয়ে সন্দেহ থাকলেও উভয় দলই পৃথকভাবে হলেও সরকার বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত।

বিএনপি জামায়াতকে ছাড়াই দেশব্যাপী ব্যাপক সমাবেশের আয়োজন করছে। এভাবে (দলটি) সমালোচকদের এমন দাবিকে অস্বীকার করছে যে- দলটি জামায়াতের মাঠের শক্তির উপর নির্ভরশীল। দলটির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জন্য ১৯টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে একটি জোট গঠন করেছে যাতে ছাত্রশিবিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমন এক জায়গা থেকে জামায়াত কীভাবে বিকশিত হবে সেটি অনুমান করা কঠিন। তবে, দলটি যে সাংগঠনিকভাবে এখনো শক্তিশালী সেটি স্পষ্ট। দলটি হয়তো আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ-বিরোধী মনোভাব থেকেও দলটি লাভবান হয়েছে।
নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে জামায়াত সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। তবে, নিজ অনুকূলে রায় পাওয়ার ব্যাপারে দলটি আশাবাদী নয়। দলীয় সূত্র দ্য ডিপ্লোম্যাটকে জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তারা দলের নাম পরিবর্তনের কথা ভাবছে।

[লেখাটি ওয়াশিংটন ডি.সি. ভিত্তিক খ্যাতনামা ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগাজিনে ২৯শে আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে। লিখেছেন ডিপ্লোম্যাটের কন্ট্রিবিউটিং অথর, সিডনি-ভিত্তিক স্কলার এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষক মুবাশ্বার হাসান। অনুবাদ করেছেন তারিক চয়ন]

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

২৬ শে মার্চ কেন স্বাধীনতা দিবস? 0 4233

২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়, যা দেশটির জাতীয় পরিচয়ের একটি মূল স্তম্ভ। ১৯৭১ সালের এই দিনে, বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে নেমেছিল। এই দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের শুরু চিহ্নিত করে, যা নয় মাস ধরে চলে এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

এই দিবসটি বাংলাদেশের জন্য একটি গভীর আবেগ, গৌরব এবং শ্রদ্ধার প্রতীক। এটি তাদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মরণে এবং সেই সংগ্রামে জীবন দেওয়া শহীদদের সম্মানে পালন করা হয়। এই দিনে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং শিক্ষামূলক কর্মশালা আয়োজন করে।

২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের মাধ্যমে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার জন্য পূর্বপুরুষদের ত্যাগ এবং সাহসিকতার কথা স্মরণ করে। এই দিবসটি তাদের ঐতিহাসিক অর্জন এবং স্বাধীনতার মূল্যকে উদযাপন করে এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় ঐক্য এবং গর্বের ভাবনা জাগ্রত করে।

১৯৪৭ সালের আগস্টে প্রায় ২০০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে বিদায় নেয় ব্রিটিশরা। কিন্তু ব্রিটিশদের এই সুদীর্ঘ শোষনের ইতিহাস ‘শেষ হইয়াও যেন হইলো না শেষ’। আর সেই স্বাধীনতা নাটকের শেষ অঙ্কের সূচনা ঘটে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ- যার মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ নামক নতুন এক ভূখণ্ড।

২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস তা প্রায় সবাই জানে। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের কারণ বা এর পেছনের ইতিহাসটা কি? আমাদের মধ্যে অনেকেই সঠিকভাবে জানে না স্বাধীনতা দিবস কি। অথচ স্বাধীনতার এই সোনালী সূর্য ছিনিয়ে আনার জন্য জীবন দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ শহীদ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কবে?

২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালের তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর্যের মাধ্যমে পালন করা হয় দিনটি।

স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস
১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্র। কিন্তু ভারতের পশ্চিমে অবস্থিত পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব দিকের ভূখণ্ড তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) মধ্যে বৈরীতার হাওয়া দেখা যাচ্ছিলো শুরু থেকেই। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী পশ্চিম পাকিস্তান ভাষাসহ চাকরি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে বৈষম্যের আচরণ করতে থাকে- যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে একটা অনিবার্য সংঘাতের দিকে মোড় নেয় পরিস্থিতি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার গভীর রাতে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) নিরীহ জনগণের উপর হামলা চালায় ও গ্রেপ্তার করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার শেখ মুজিবুর রহমানকে। তবে গ্রেপ্তারের কিছু আগেই ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। ঘোষণাটি নিম্নরুপ:


এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।


২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে শেখ মুজিব এর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি মাইকিং করে প্রচার করা হয়। পরে ২৭শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে পুনরায় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

কবে থেকে স্বাধীনতা দিবসের শুরু হয়েছে?
১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ থেকে স্বাধীনতা দিবসের মাধ্যমে সূচনা হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের। দীর্ঘ নয় মাসের এই যুদ্ধের মাধ্যমে অনেক ত্যাগ ও রক্তের মাধ্যমে আমরা বিজয় লাভ করি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। তারপর থেকেই প্রতিবছর ২৬ মার্চকে পালন করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে।

২৬ শে মার্চ কে স্বাধীনতা দিবস ঘোষনা করা হয় কবে?
২৬ শে মার্চ কি দিবস- তা এখন আমরা সবাই জানি। কিন্তু ২৬ মার্চ কে স্বাধীনতা দিবস ঘোষনা করা হয় কখন তা আমরা অনেকেই জানি না। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে ২৬ মার্চকে বাংলাদেশে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করার ঘোষণা দেয়া হয় এবং সরকারিভাবে এ দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়।
স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য
জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এই দিনটি প্রত্যেক বাংলাদেশীর জীবনে বয়ে আনে একই সঙ্গে আনন্দ-বেদনা-গৌরবের এক অম্ল-মধুর অনুভূতি। একদিকে হারানোর কষ্ট অন্যদিকে মুক্তির আনন্দ। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ছাড়িয়ে স্বাধীনতা প্রাপ্তির অপার আনন্দই বড় হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালির কাছে। গৌরবোজ্জ্বল এই দিনটি প্রতিবছর আসে আত্মত্যাগ, আত্মপরিচয় ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে। সেই সাথে স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। নব উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আসে এই দিন। আমাদের উচিত এই দিনটিকে শক্তিতে পরিণত করে নতুন দিনের পথে এগিয়ে চলার।

ই-মেইল লেখার নিয়ম ও আদবকেতা 0 5169

ইমেইল লেখার নিয়ম

পড়ালেখা কিংবা পেশাগত জীবনে এখন ই-মেইলের গুরুত্ব অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে ই-মেইল করা থেকে শুরু করে বৃত্তি, ফেলোশিপ, ইন্টার্নশিপসহ নানা কারণে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু অনেকেই ই-মেইল লেখার আদবকেতা জানেন না। জেনে নেই ইমেইল / অনুলিপি লেখার নিয়মঃ

১. কেমন হবে ই-মেইল ঠিকানা?

অনেকে ই-মেইল ঠিকানা তৈরির সময় কিছু শব্দ যোগ করে দেন। যেমন ‘ড্রিম বয়’, ‘ওয়ারিয়র’, ‘সুইট’, ‘ঢাকা’ ইত্যাদি। অনেকে যোগ করেন জন্মসাল। যেমন rahim1998@gmail.com। এ ধরনের ই-মেইল ঠিকানা অপেশাদার আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ই-মেইল ঠিকানা তৈরির ক্ষেত্রে নামের আদ্যক্ষর কিংবা পেশার পরিচয় প্রকাশ করুন। যেমন আপনার নাম যদি হয় আহসান আহমেদ খান, আপনার ই-মেইল ঠিকানা হতে পারে aakhan@yahoo.com। কখনো কখনো পেশাও ই-মেইল ঠিকানার অংশ হতে পারে। যেমন hasan. writer@gmail.com বা hasan.doctor@outlook.com। ওয়েব মেইল বা বিনামূল্যের ই–মেইল সেবায় পছন্দমতো ই-মেইল ঠিকানা না পেলে নামের সঙ্গে ২ অঙ্কের সংখ্যা বসিয়ে নিতে পারেন। যেমন aakhan88@gmail.com।

২. সম্ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যাঁকেই ই-মেইল করুন না কেন, সম্ভাষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজিতে লেখার ক্ষেত্রে শুধু ‘হাই’ বা ‘হ্যালো’ লিখে শুরু করবেন না। যাঁকে ই-মেইল করছেন, তাঁর গুরুত্ব বিবেচনা করে ‘ডিয়ার স্যার’ বা ‘ডিয়ার প্রফেসর’-এভাবে লিখতে পারেন। কখনো কখনো যোগ করতে পারেন প্রাপকের নাম, যেমন ‘ডিয়ার প্রফেসর এনামুল হক’। সহকর্মী কিংবা সমবয়সী কাউকে ই-মেইল পাঠানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করুন। যদি প্রাপকের নাম না জানা থাকে, তাহলে শুধু ‘ডিয়ার স্যার’ লিখুন। বাংলায় লিখলে ‘জনাব…’ বা ‘প্রিয়…’ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

৩. বানান-ব্যাকরণে ভুল নয়

ই-মেইল লেখার পর অবশ্যই বানান পরীক্ষা করবেন। ইংরেজি কিংবা বাংলা যে ভাষাতেই ই-মেইল লিখুন না কেন, বানান শুদ্ধ রাখতেই হবে। ব্যাকরণে ভুল করা চলবে না। ইংরেজি ব্যাকরণে যারা দুর্বল, তারা ইন্টারনেট ব্রাউজারে ‘গ্রামারলি’ কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো বানান-ব্যাকরণ সংশোধনের ‘এক্সটেনশন’ যুক্ত করে নিতে পারেন। জিমেইল বা এ ধরনের ওয়েব মেইল সেবায় বানান পরীক্ষক রয়েছে। ইংরেজি বানান ভুল হলে সেটির নিচে লাল দাগ আসে। শব্দের ওপর মাউসের ‘ডান ক্লিক’ করে শুদ্ধ বানান বেছে নিন।

৪. ‘সাবজেক্ট লাইন’ সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখুন

‘সাবজেক্ট লাইন’ অর্থাৎ ই-মেইলের বিষয় দুই বা তিনটি শব্দে এমনভাবে লিখুন, যেন তা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুধু ‘ই-মেইল’ বা ‘হাই-হ্যালো’ লিখবেন না। যে কারণে ই-মেইল করছেন, তা স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে লিখুন। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারলেও কম শব্দে লিখুন।

৫. ‘সিসি’ ও ‘বিসিসি’

কখনো কখনো আমরা একসঙ্গে কয়েকজনকে ই-মেইল করে থাকি। এ ক্ষেত্রে কার্বন কপি (সিসি) বা অনুলিপি কাদের দিচ্ছেন, তা অবশ্যই খেয়াল করুন। ই-মেইলের মূল প্রাপক যিনি, তাঁর নামটি ই-মেইল ঠিকানার ঘরে লিখতে হবে, আর যাদের অনুলিপি পাঠাচ্ছেন তাঁদের নাম ‘সিসি’ ঘরে লিখতে হবে। অনুলিপি আপনি কাদের পাঠাচ্ছেন, সেটা প্রাপকদের না জানাতে চাইলে বিসিসি বা ‘ব্লাইন্ড কার্বন কপি’ ঘরে ই-মেইল ঠিকানা লিখুন।

৬. ‘রিপ্লাই অল’ ক্লিক করার আগে ভাবুন

আমরা অনেক সময় এমন ই-মেইল পেয়ে থাকি, যেখানে সিসি বা অনুলিপি হিসেবে আরও অনেকের ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত থাকে। এ ক্ষেত্রে অনেকে কোনো কিছু না ভেবেই ‘রিপ্লাই অল’ চাপেন। অর্থাৎ এর মাধ্যমে ই-মেইলে সম্পৃক্ত সবার কাছেই উত্তরটা পৌঁছে যায়। কিন্তু আপনি হয়তো চাইছেন, ই-মেইলটি যিনি পাঠিয়েছেন, শুধু তাঁর কাছেই উত্তর যাক। এ ক্ষেত্রে ‘রিপ্লাই অল’ সিলেক্ট করা ঠিক হবে না। আপনি আপনার উত্তর ই-মেইলের সঙ্গে সংযুক্ত সবাইকেই জানাতে চান কি না, সেটা ভাবুন।

৭. অল্প কথায় লিখুন

পেশাজীবনে চার থেকে ছয় বাক্যের মধ্যে ই-মেইল লেখার চর্চা করুন। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এমনটাই উপদেশ দেন। বলা হয়, আপনি যদি চার থেকে ছয়টি বাক্যের মধ্যে সহজভাবে লিখে প্রকাশ করতে না পারেন, তাহলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখেও আপনার বক্তব্য বোঝাতে পারবেন না। মুঠোফোনে যেমন ১৬০ শব্দ, আবার টুইটারে ১৪০ শব্দের মধ্যে মনের ভাব তুলে ধরতে হয়, সেভাবে চার থেকে ছয় বাক্যে ই-মেইল লেখার চর্চা করুন। বড় আকারের ই-মেইল লিখতে হলে লেখার শুরুতেই প্রাপককে বিষয়টা জানিয়ে নিন। গুরুত্বপূর্ণ বাক্যগুলো ‘আন্ডারলাইন’ করে দিন। আবার বেশি ছোট ই-মেইল লেখাও ভদ্রতার পরিচয় নয়। ই-মেইলের উত্তরে শুধু ‘ধন্যবাদ’ কিংবা ‘গট ইট’ (পেয়েছি), এমন কিছু লিখবেন না। অন্তত দুই থেকে তিনটি বাক্য ব্যবহার করে উত্তর দিন।

৮. ইন্টারনেটের ‘চলতি’ ভাষা এড়িয়ে চলুন

ই-মেইল লেখার সময় বিনা প্রয়োজনে কোনো বাক্য যোগ করবেন না। মেসেঞ্জারে চ্যাট করার সময় আমরা যেমন সংক্ষিপ্ত আকারে লিখি, যেমন ‘অ্যাসাপ’, ‘বিআরবি’, ‘এলওএল’—এ ধরনের শব্দ না লেখাই ভালো। পূর্ণ শব্দ লিখুন। You লিখতে গিয়ে সংক্ষেপে U লিখবেন, এমনটা যেন না হয়।

৯. ই-স্বাক্ষর যুক্ত করুন ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

ই-মেইল সব সময় পরিচ্ছন্ন ও সাবলীল ভাষায় লিখুন। যে বক্তব্য প্রকাশ করতে চান, তা স্পষ্ট শব্দ ও বাক্যে লিখুন। কঠিন শব্দ বা অতি দীর্ঘ বাক্য ব্যবহার করে প্রাপকের মনোযোগ নষ্ট করবেন না। ই-মেইল লেখা শেষে শুভেচ্ছা জানিয়ে দু-তিনটি শব্দ অবশ্যই লিখবেন। ই-মেইলের শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের নাম ও পরিচয়ের তথ্য যুক্ত করতে পারেন। ই-স্বাক্ষর যোগ করার উপায়ও ই-মেইলে আছে। নাম, পরিচয়, প্রয়োজনে মুঠোফোন নম্বর ‘ই-স্বাক্ষর’ হিসেবে যুক্ত করুন। ‘ই-স্বাক্ষর’ চার লাইনের বেশি না হওয়াই ভালো।

১০. ফাইল সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন

ই-মেইলে ‘অ্যাটাচড ফাইল’ পাঠানোর সময় সতর্ক থাকুন। দুই বা তিনটির বেশি ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে গুগল ড্রাইভ কিংবা মাইক্রোসফট আউটলুকের ক্ষেত্রে ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার করুন। আপনার ড্রাইভে প্রাপকের প্রবেশাধিকার (একসেস) আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করুন। অনেকে ই-মেইলের সঙ্গে একগাদা ওয়েবসাইটের লিংক যোগ করে দেন। এ ধরনের আচরণ প্রাপককে বিরক্ত করতে পারে। খুব প্রয়োজন না হলে এমনটা না করাই শ্রেয়।