উইন্ডোজ ৭ থেকে উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করুন 0 460

উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল করার নিয়ম

মাইক্রোসফটের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারির পর উইন্ডোজ ৭ আর কোনো আপডেট পাচ্ছে না। মূলত উইন্ডোজ এক্সপির পর উইন্ডোজের ৭ সংস্করণটি বন্ধ করে দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে সফটওয়্যার জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। উইন্ডোজ ৭ পিসি কোনো ধরনের সফটওয়্যার আপডেট না পেলে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি উইন্ডোজের সর্বশেষ ফিচার ব্যবহারের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে। তবে চাইলে উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীরা তাদের পিসিকে উইন্ডোজ ১০-এ আপগ্রেড করে নিতে পারবেন। এজন্য আপনার এমন কনফিগারেশনের পিসি থাকতে হবে যা উইন্ডোজ ১০ সমর্থন করবে। উইন্ডোজ ৭ ব্যবহৃত পিসিটি যদি উইন্ডোজ ১০ সমর্থন করে, তবে কোনো ডাটা বা ফাইল হারানো ছাড়াই আপগ্রেড করে নেওয়া যাবে। উইন্ডোজ ১০ একটি ‘লিগ্যাসি মোড’ রেখেছে যা চলমান সব পুরোনো অ্যাপ্লিকেশনকে নতুন সিস্টেমে সচল রাখবে। উইন্ডোজ ১০-এ আপগ্রেড করে নিলে পুরোনো অ্যাপ্লিকেশনগুলো আপডেট পেতে শুরু করবে।

পিসিতে কি উইন্ডোজ ১০ চলবে?

প্রথমেই দেখতে হবে আপনার উইন্ডোজ ৭ চালিত কম্পিউটারটি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম গ্রহণে সক্ষম কিনা। যেসব পিসি উইন্ডোজ ৭ গ্রহণ করতে সক্ষম, তার বেশিরভাগই উইন্ডোজ ১০ সমর্থন করে। তবে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমটি চালু করতে ন্যূনতম কনফিগার যা হতে পারে- কমপক্ষে ১ গিগাহার্টজ গতির প্রসেসর, র‌্যাম হতে হবে ১ গিগাবাইট (৩২ বিটের জন্য) এবং ২ গিগাবাইট (৬৪ বিটের জন্য), হার্ডড্রাইভ ন্যূনতম ৩২ গিগাবাইট, গ্রাফিক্স কার্ড ডিরেক্টএক্স বা ডব্লিউডিডিএম ১.০ ড্রাইভারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ডিসপ্লে ৮০০ বাই ৬০০ পিক্সেল। যদি পিসির কনফিগার সমর্থন করেন তবে ৬৪ বিট বেছে নেওয়াটাই ভালো হবে। এতে বেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করার পাশাপাশি অধিক র‌্যাম থাকার সুবিধাও পুরোপুরি উপভোগ করা যাবে। উইন্ডোজ ১০-এ আপগ্রেড করতে হার্ডওয়্যার চাহিদার সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হবে। ইনস্টলার আপনাকে ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার সুবিধাও দেবে।

উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল

অফিসিয়ালভাবে মাইক্রোসফটের অনলাইন স্টোর থেকে উইন্ডোজ ১০ পেতে পারেন। নতুন অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করার ক্ষেত্রে নতুন সিস্টেম গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় সব ডাটা সংরক্ষণ রাখা জরুরি। আর ইনস্টল হয়ে গেলে উইন্ডোজ ১০-এ অনায়াসে উপভোগ করতে পারবেন সব ফিচার।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রাউজার এর কাজ কি? কম্পিউটারের কোন ব্রাউজার কার জন্য? 0 981

ব্রাউজারের কাজ

ইন্টারনেটে কেউ গান শোনেন, কেউ ফেসবুক ব্যবহার করেন, অনেকে সারেন দরকারি কাজ। কেউবা আবার গেম খেলতে ঢুঁ মারেন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। প্রধান ব্রাউজারগুলোর সুবিধার তালিকা প্রায় একই। তবু ব্রাউজারগুলো আলাদা। একেকজনের কাজের ধরন বুঝেই ব্রাউজার নির্বাচন করা উচিত। আর সব কাজ এক ব্রাউজার দিয়ে করতে চাইলে জেনে নিতে হবে কোন ব্রাউজার আপনার জন্য উপযুক্ত।

ব্রাউজার আসলে কি? ওয়েব ব্রাউজার(Web Browser) হলো এমন একটি সফটওয়্যার যেটি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী/ ইউজার যে কোনো ওয়েবপেইজ অথবা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে অবস্থিত কোনো ওয়েবসাইটের যে কোনো কনটেন্ট(লেখা, ছবি এবং অন্যান্য তথ্য) এর অনুসন্ধান, ডাউনলোড কিংবা দেখতে পারেন। কোনো ওয়েবসাইটে অবস্থিত লেখা এবং ছবি একই অথবা ভিন্ন কোন ওয়েবসাইটের সাথে হাইপারলিংক থাকলে একটি ওয়েব ব্রাউজার একজন ব্যবহারকারীকে দ্রূত এবং সহজে এই সকল লিঙ্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অবস্থিত অসংখ্য ওয়েবপেইজের সাথে তথ্য আদান-প্রদানে সাহায্য করে।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বা মাইক্রোসফটের নতুন ব্রাউজার ‘এজ’(Microsoft Edge) দেওয়াই থাকে। আর অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য থাকে সাফারি(Safari)। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি ব্রাউজার ওপেন সোর্স কোড-ভিত্তিক গুগল ক্রোম ও মজিলা ফায়ারফক্স। এর বাইরে অন্য বেশ কিছু ব্রাউজার গুগল ক্রোমের সোর্স কোড ব্যবহার করে তৈরি। এসবের পরেই আছে অপেরা(Opera) ও ভিভালদি ব্রাউজারের নাম। গুরুত্বপূর্ণ সব ব্রাউজারই ভিন্ন ভিন্ন রেন্ডারিং ইঞ্জিন ব্যবহার করে থাকে। গুগল ব্যবহার করে ব্লিংক ইঞ্জিন। গেকো ইঞ্জিন ব্যবহার করে ফায়ারফক্স। ট্রাইডেন্ট ইঞ্জিন ব্যবহার করে মাইক্রোসফট আর সাফারি ব্যবহার করে ওয়েবকিট ইঞ্জিন।ইন্টারনেটে কেউ গান শোনেন, কেউ ফেসবুক ব্যবহার করেন, অনেকে সারেন দরকারি কাজ। কেউবা আবার গেম খেলতে ঢুঁ মারেন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। প্রধান ব্রাউজারগুলোর সুবিধার তালিকা প্রায় একই। তবু ব্রাউজারগুলো আলাদা। একেকজনের কাজের ধরন বুঝেই ব্রাউজার নির্বাচন করা উচিত। আর সব কাজ এক ব্রাউজার দিয়ে করতে চাইলে জেনে নিতে হবে কোন ব্রাউজার আপনার জন্য উপযুক্ত।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বা মাইক্রোসফটের নতুন ব্রাউজার ‘এজ’ দেওয়াই থাকে। আর অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য থাকে সাফারি। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি ব্রাউজার ওপেন সোর্স কোড-ভিত্তিক গুগল ক্রোম ও মজিলা ফায়ারফক্স। এর বাইরে অন্য বেশ কিছু ব্রাউজার গুগল ক্রোমের সোর্স কোড ব্যবহার করে তৈরি। এসবের পরেই আছে অপেরা ও ভিভালদি ব্রাউজারের নাম। গুরুত্বপূর্ণ সব ব্রাউজারই ভিন্ন ভিন্ন রেন্ডারিং ইঞ্জিন ব্যবহার করে থাকে। গুগল ব্যবহার করে ব্লিংক ইঞ্জিন। গেকো ইঞ্জিন ব্যবহার করে ফায়ারফক্স। ট্রাইডেন্ট ইঞ্জিন ব্যবহার করে মাইক্রোসফট আর সাফারি ব্যবহার করে ওয়েবকিট ইঞ্জিন।

গুগল ক্রোম ব্রাউজার

নিরাপত্তার বিবেচনায় গুগল ক্রোম(Google Chrome) এগিয়ে থাকবে। বর্তমানে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার। ক্রোমে অন্য ব্রাউজারগুলোর তুলনায় ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় একটা ট্যাবে কোনো ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় কোনো কারণে ক্র্যাশ করলে সেটি পুরো ব্রাউজারে প্রভাব ফেলে না। তবে অন্যগুলোর তুলনায় ক্রোম কম্পিউটারের বেশি মেমোরি নিয়ে থাকে। একই সঙ্গে একাধিক ট্যাব চালু রাখলে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে ব্যাটারি বেশি খরচ হয়। এই সমস্যা সমাধানে অবশ্য কাজ চলছে।

মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার

মজিলা ফায়ারফক্স(Mozilla Firefox) ক্রোমের মতোই দ্রুততার সঙ্গে ওয়েবসাইট দেখাতে পারে। এটি ক্রোমের তুলনায় মেমোরি কম খরচ করে কিন্তু কোনো ট্যাবের সাইট যদি ক্র্যাশ করে, তবে পুরো ব্রাউজারকে ক্র্যাশ করে ফেলে। কখনো কখনো একাধিক ট্যাব চালু রাখলে ফায়ারফক্স ধীরগতির হয়ে যায়। ফলে এটিকে রিস্টার্ট করার প্রয়োজন পড়ে।

মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার

এজ দ্রুত এবং এতে নিরাপত্তাও বেশ ভালো। বলা হয় এটি ক্রোমের মতোই ব্যাটারি বেশি খরচ করে। কিন্তু এটি এখনো ডেভেলপমেন্ট অবস্থায় আছে। উইন্ডোজ দশের করটানা সুবিধা এতে যুক্ত থাকায় এটি ব্যবহার সুবিধাজনক। ফায়ারফক্সের স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখলেও এটি অন্তত ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের চেয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে। তবে এতে ব্রাউজার এক্সটেনশন কম থাকায় অনেকটা পিছিয়েও আছে।

অন্যান্য ব্রাউজার

গোপনীয়তা ও অন্যান্য কারণে ক্রোম-ভিত্তিক ভিভালদি ব্যবহার করা যায়। নিজের পছন্দমতো এটি সাজিয়ে নেওয়া যায়। অপেরা ব্রাউজারের আগের ডেভেলপাররা ভিভালদি তৈরি করেছে। ভিভালদি ও অপেরা ব্রাউজারে ক্রোমের অনেক এক্সটেনশনই সমর্থন করে। জনপ্রিয় এই ব্রাউজারের বাইরে আরও কিছু ব্রাউজার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। রাশিয়ান সার্চ ইঞ্জিন ইয়ানডেক্সের ডেভেলপারদের বানানো ইয়ানডেক্স ব্রাউজার অনেকটা গুগল ক্রোমের মতোই। ক্রোমিয়াম-ভিত্তিক এই ব্রাউজারে চাইলেই আপনি পছন্দমতো আপনার দরকারি সব কাজই করতে পারবেন। উইন্ডোজ, ম্যাক ও স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যায় এটি। এ ছাড়া কোমোডো আইসড্রাগন ব্রাউজারের নিরাপত্তাব্যবস্থাও বেশ ভালো। অনিরাপদ ওয়েবসাইট বা নিরাপদ লগইনের জন্য এটি বেশ ভালো। ফায়ারফক্সের প্লাগইনস এখানে ব্যবহার করতে পারবেন। আবার ম্যাক্সথন ব্রাউজার একসঙ্গে একাধিক সাইটকে পাশাপাশি দেখিয়ে ব্রাউজিংয়ের সুবিধা দেয়। এর ইউএক্স অনেক নজরকাড়া।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার

নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, গতি—সব মিলিয়ে নির্ধারণ করতে হবে, কোন ব্রাউজার আপনার জন্য। ওয়েব ব্রাউজার হতে হবে দ্রুততর এবং সব অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত। এমন হতে হবে, যাতে নিরাপত্তাবলয় থাকবে জোরদার। হতে পারে আপনার অজান্তেই এমন এক লিংকে ক্লিক করেছেন, যার ফলে কম্পিউটারে ভাইরাস এসে গেল। তাই নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিতে হবে আগে।

ই-মেইল লেখার নিয়ম ও আদবকেতা (২০২১) 0 547

ইমেইল লেখার নিয়ম

পড়ালেখা কিংবা পেশাগত জীবনে এখন ই-মেইলের গুরুত্ব অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে ই-মেইল করা থেকে শুরু করে বৃত্তি, ফেলোশিপ, ইন্টার্নশিপসহ নানা কারণে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু অনেকেই ই-মেইল লেখার আদবকেতা জানেন না। জেনে নেই ইমেইল / অনুলিপি লেখার নিয়মঃ

১. কেমন হবে ই-মেইল ঠিকানা?

অনেকে ই-মেইল ঠিকানা তৈরির সময় কিছু শব্দ যোগ করে দেন। যেমন ‘ড্রিম বয়’, ‘ওয়ারিয়র’, ‘সুইট’, ‘ঢাকা’ ইত্যাদি। অনেকে যোগ করেন জন্মসাল। যেমন rahim1998@gmail.com। এ ধরনের ই-মেইল ঠিকানা অপেশাদার আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ই-মেইল ঠিকানা তৈরির ক্ষেত্রে নামের আদ্যক্ষর কিংবা পেশার পরিচয় প্রকাশ করুন। যেমন আপনার নাম যদি হয় আহসান আহমেদ খান, আপনার ই-মেইল ঠিকানা হতে পারে aakhan@yahoo.com। কখনো কখনো পেশাও ই-মেইল ঠিকানার অংশ হতে পারে। যেমন hasan. writer@gmail.com বা hasan.doctor@outlook.com। ওয়েব মেইল বা বিনামূল্যের ই–মেইল সেবায় পছন্দমতো ই-মেইল ঠিকানা না পেলে নামের সঙ্গে ২ অঙ্কের সংখ্যা বসিয়ে নিতে পারেন। যেমন aakhan88@gmail.com।

২. সম্ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যাঁকেই ই-মেইল করুন না কেন, সম্ভাষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজিতে লেখার ক্ষেত্রে শুধু ‘হাই’ বা ‘হ্যালো’ লিখে শুরু করবেন না। যাঁকে ই-মেইল করছেন, তাঁর গুরুত্ব বিবেচনা করে ‘ডিয়ার স্যার’ বা ‘ডিয়ার প্রফেসর’-এভাবে লিখতে পারেন। কখনো কখনো যোগ করতে পারেন প্রাপকের নাম, যেমন ‘ডিয়ার প্রফেসর এনামুল হক’। সহকর্মী কিংবা সমবয়সী কাউকে ই-মেইল পাঠানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করুন। যদি প্রাপকের নাম না জানা থাকে, তাহলে শুধু ‘ডিয়ার স্যার’ লিখুন। বাংলায় লিখলে ‘জনাব…’ বা ‘প্রিয়…’ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

৩. বানান-ব্যাকরণে ভুল নয়

ই-মেইল লেখার পর অবশ্যই বানান পরীক্ষা করবেন। ইংরেজি কিংবা বাংলা যে ভাষাতেই ই-মেইল লিখুন না কেন, বানান শুদ্ধ রাখতেই হবে। ব্যাকরণে ভুল করা চলবে না। ইংরেজি ব্যাকরণে যারা দুর্বল, তারা ইন্টারনেট ব্রাউজারে ‘গ্রামারলি’ কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো বানান-ব্যাকরণ সংশোধনের ‘এক্সটেনশন’ যুক্ত করে নিতে পারেন। জিমেইল বা এ ধরনের ওয়েব মেইল সেবায় বানান পরীক্ষক রয়েছে। ইংরেজি বানান ভুল হলে সেটির নিচে লাল দাগ আসে। শব্দের ওপর মাউসের ‘ডান ক্লিক’ করে শুদ্ধ বানান বেছে নিন।

৪. ‘সাবজেক্ট লাইন’ সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখুন

‘সাবজেক্ট লাইন’ অর্থাৎ ই-মেইলের বিষয় দুই বা তিনটি শব্দে এমনভাবে লিখুন, যেন তা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুধু ‘ই-মেইল’ বা ‘হাই-হ্যালো’ লিখবেন না। যে কারণে ই-মেইল করছেন, তা স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে লিখুন। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারলেও কম শব্দে লিখুন।

৫. ‘সিসি’ ও ‘বিসিসি’

কখনো কখনো আমরা একসঙ্গে কয়েকজনকে ই-মেইল করে থাকি। এ ক্ষেত্রে কার্বন কপি (সিসি) বা অনুলিপি কাদের দিচ্ছেন, তা অবশ্যই খেয়াল করুন। ই-মেইলের মূল প্রাপক যিনি, তাঁর নামটি ই-মেইল ঠিকানার ঘরে লিখতে হবে, আর যাদের অনুলিপি পাঠাচ্ছেন তাঁদের নাম ‘সিসি’ ঘরে লিখতে হবে। অনুলিপি আপনি কাদের পাঠাচ্ছেন, সেটা প্রাপকদের না জানাতে চাইলে বিসিসি বা ‘ব্লাইন্ড কার্বন কপি’ ঘরে ই-মেইল ঠিকানা লিখুন।

৬. ‘রিপ্লাই অল’ ক্লিক করার আগে ভাবুন

আমরা অনেক সময় এমন ই-মেইল পেয়ে থাকি, যেখানে সিসি বা অনুলিপি হিসেবে আরও অনেকের ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত থাকে। এ ক্ষেত্রে অনেকে কোনো কিছু না ভেবেই ‘রিপ্লাই অল’ চাপেন। অর্থাৎ এর মাধ্যমে ই-মেইলে সম্পৃক্ত সবার কাছেই উত্তরটা পৌঁছে যায়। কিন্তু আপনি হয়তো চাইছেন, ই-মেইলটি যিনি পাঠিয়েছেন, শুধু তাঁর কাছেই উত্তর যাক। এ ক্ষেত্রে ‘রিপ্লাই অল’ সিলেক্ট করা ঠিক হবে না। আপনি আপনার উত্তর ই-মেইলের সঙ্গে সংযুক্ত সবাইকেই জানাতে চান কি না, সেটা ভাবুন।

৭. অল্প কথায় লিখুন

পেশাজীবনে চার থেকে ছয় বাক্যের মধ্যে ই-মেইল লেখার চর্চা করুন। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এমনটাই উপদেশ দেন। বলা হয়, আপনি যদি চার থেকে ছয়টি বাক্যের মধ্যে সহজভাবে লিখে প্রকাশ করতে না পারেন, তাহলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখেও আপনার বক্তব্য বোঝাতে পারবেন না। মুঠোফোনে যেমন ১৬০ শব্দ, আবার টুইটারে ১৪০ শব্দের মধ্যে মনের ভাব তুলে ধরতে হয়, সেভাবে চার থেকে ছয় বাক্যে ই-মেইল লেখার চর্চা করুন। বড় আকারের ই-মেইল লিখতে হলে লেখার শুরুতেই প্রাপককে বিষয়টা জানিয়ে নিন। গুরুত্বপূর্ণ বাক্যগুলো ‘আন্ডারলাইন’ করে দিন। আবার বেশি ছোট ই-মেইল লেখাও ভদ্রতার পরিচয় নয়। ই-মেইলের উত্তরে শুধু ‘ধন্যবাদ’ কিংবা ‘গট ইট’ (পেয়েছি), এমন কিছু লিখবেন না। অন্তত দুই থেকে তিনটি বাক্য ব্যবহার করে উত্তর দিন।

৮. ইন্টারনেটের ‘চলতি’ ভাষা এড়িয়ে চলুন

ই-মেইল লেখার সময় বিনা প্রয়োজনে কোনো বাক্য যোগ করবেন না। মেসেঞ্জারে চ্যাট করার সময় আমরা যেমন সংক্ষিপ্ত আকারে লিখি, যেমন ‘অ্যাসাপ’, ‘বিআরবি’, ‘এলওএল’—এ ধরনের শব্দ না লেখাই ভালো। পূর্ণ শব্দ লিখুন। You লিখতে গিয়ে সংক্ষেপে U লিখবেন, এমনটা যেন না হয়।

৯. ই-স্বাক্ষর যুক্ত করুন ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

ই-মেইল সব সময় পরিচ্ছন্ন ও সাবলীল ভাষায় লিখুন। যে বক্তব্য প্রকাশ করতে চান, তা স্পষ্ট শব্দ ও বাক্যে লিখুন। কঠিন শব্দ বা অতি দীর্ঘ বাক্য ব্যবহার করে প্রাপকের মনোযোগ নষ্ট করবেন না। ই-মেইল লেখা শেষে শুভেচ্ছা জানিয়ে দু-তিনটি শব্দ অবশ্যই লিখবেন। ই-মেইলের শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের নাম ও পরিচয়ের তথ্য যুক্ত করতে পারেন। ই-স্বাক্ষর যোগ করার উপায়ও ই-মেইলে আছে। নাম, পরিচয়, প্রয়োজনে মুঠোফোন নম্বর ‘ই-স্বাক্ষর’ হিসেবে যুক্ত করুন। ‘ই-স্বাক্ষর’ চার লাইনের বেশি না হওয়াই ভালো।

১০. ফাইল সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন

ই-মেইলে ‘অ্যাটাচড ফাইল’ পাঠানোর সময় সতর্ক থাকুন। দুই বা তিনটির বেশি ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে গুগল ড্রাইভ কিংবা মাইক্রোসফট আউটলুকের ক্ষেত্রে ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার করুন। আপনার ড্রাইভে প্রাপকের প্রবেশাধিকার (একসেস) আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করুন। অনেকে ই-মেইলের সঙ্গে একগাদা ওয়েবসাইটের লিংক যোগ করে দেন। এ ধরনের আচরণ প্রাপককে বিরক্ত করতে পারে। খুব প্রয়োজন না হলে এমনটা না করাই শ্রেয়।

Most Popular Topics

Editor Picks