
“আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ”। বাবা-মা ছেলেবেলা থেকে এটাই শিখিয়ে এসেছেন। আজও তারা বলে থাকেন, সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়তে। সত্যিই সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অনেক উপকারিতা রয়েছে। জেনে নিন সেগুলো কী কী –
১) সময় কাজে লাগানোঃ সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময়টা কাজে লাগাতে পারা যায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে সমস্ত মানুষ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠেন, তারা অনেক বেশি এনার্জিটিক হন। যে কোন কাজ করতে খুব কম সময় নেন তারা। শুধু তাই নয়, কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে, পরিকল্পনা করতে এবং লক্ষ্যে পৌঁছতে তারাই সেরা হন।
২) চিন্তামুক্তিঃ সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার সবথেকে ভালো উপকারিতা হল, চিন্তামুক্তি। যখন আমরা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠি, তখন সূর্যের নরম আলোয় আমাদের মাথা থেকে সব চিন্তা দূর হয়ে যায়। একটা পজেটিভ এনার্জি মনে কাজ করে। ফলে সারাদিনের সমস্ত কাজকর্ম সফল হয়।
৩) সুস্থতাঃ সকালে তখনই তাড়াতাড়ি ওঠা যায়, যদি তাড়াতাড়ি ঘুমাতেও যাওয়া যায়। একদিন তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া আর একদিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে চলবে না। এই নিয়ম নিয়মিত বজায় রাখতে হবে। তবেই আপনার ঘুম ভালো হবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে।
৪) পরীক্ষায় ভালো করাঃ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিশেষজ্ঞ একটি সমীক্ষা করেন। সেই সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে, তারা পড়াশোনায় অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ভালো হয় এবং তাদের পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠার দোয়া
সকালে ঘুম থেকে উঠে রাসূল (সা.)-এর শেখানো সবচেয়ে সাধারণ ও প্রচলিত দোয়াটি হলো:
আরবি:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ [1]
উচ্চারণ:
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর [০.৫.২, ০.৫.৪]। [1, 2]
অর্থ:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত করার (ঘুমের) পর পুনরায় জীবিত করেছেন (জাগিয়েছেন)। আর তাঁর দিকেই সবার পুনরুত্থান [০.৫.৩, ০.৫.৪]। [1, 2]
অন্যান্য আমল ও দোয়া:
ঘুম থেকে উঠে প্রথমে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা।
মিসওয়াক করা বা দাঁত পরিষ্কার করা।
আরেকটি দোয়া (ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৮): اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَى وَبِكَ نَمُوتُ – “আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামুতু” [০.৫.৫]। [1, 2, 3]
সূত্র: বুখারি, হাদিস নং ৬৩২৪, মুসলিম, হাদিস নং ২৭১১। [1, 2, 3]




