এড়িয়ে চলা উচিত যেসব বন্ধুদের 0 539

খারাপ বন্ধু থেকে দূরে থাকুন

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, আড্ডা, খেলার সঙ্গী, অফিসে এমনকী রাস্তাঘাটে পরিচয়ের পরও অনেকে বন্ধু হয়ে যায়। তবে সব বন্ধুই কি সত্যিকারের বন্ধু হন? 

বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে যান। কেউ বা শত্রুর চেয়েও খারাপ হন। বন্ধুত্বের সম্পর্ক সবসময় একরকম থাকে না। ব্যস্ততা বা জীবনের নিয়মে দিনে দিনে তা পরিবর্তিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সম্পর্ক যদি বিষাক্ত হয়ে ওঠে তখন তা মেনে নেওয়া অনেকসময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে সম্পর্কে তিক্ততা আসার আগে কিছু লক্ষণ দেখ ক্ষতিকর বন্ধুকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত। যেমন –

কথা না রাখা বন্ধু : কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা, গেট টুগেদার বা পিকনিকে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিলেও শেষ মুহূর্তে কথা রাখতে পারেন না কেউ কেউ। এরা বেশিরভাগ সময় বন্ধুর সময়ের মূল্য দেন না। বারবার একই ঘটনা ঘটলে এমন বন্ধু থেকে দূরে থাকা উচিত। সুবিধাবাদী বন্ধু : অনেকেরই বন্ধু তালিকায় এমন কেউ কেউ আছেন যারা স্বার্থের জন্যই বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। দেখা যায়, এদের নিয়ে কোথাও খেতে বসলে সব সময় খাবারের বিল আপনাকেই দিতে হচ্ছে। এমন বন্ধুর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

হতাশ বন্ধু : সবার জীবনেই কোনও না কোনও সময় হতাশা বা খারাপ সময় আসে। কিন্তু অনেকে আছেন পরিস্থিতি পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে সব সময় নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। এ ধরনের বন্ধুর সঙ্গে বেশিদিন মিশলে  আপনার মধ্যেও নেতিবাচক ভাব চলে আসবে। এ কারণে এমন বন্ধুদের থেকে দূরে থাকা উচিত। 

প্রতিযোগী বন্ধু : এমন অনেকেই থাকেন যারা সবসময় বন্ধুর চেয়ে জীবনে এগিয়ে থাকাতে প্রতিযোগী মনোভাব নিয়ে থাকেন। এ জন্য তারা প্রয়োজনে অনৈতিক কাজ করতেও দ্বিধা করেন না। এ ধরনের বন্ধু থেকেও দূর থাকা উচিত। 

নিয়ন্ত্রক বন্ধু : কিছু বন্ধু আছেন, যারা সবসময় আপনাকে বা অন্য বন্ধুদের চিন্তাধারা, সিদ্ধান্ত এমনকী কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতে চান। এরা অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করতে বা দিক নির্দেশনা দিতেই পছন্দ করেন। একটা পর্যায়ে এমন বন্ধুরা আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আপনাকে কোনও কাজ করতে বাধ্য করবেন। তাই এসব বন্ধুর কাছ থেকে দূরে থাকুন।

পরচর্চাকারী বন্ধু : এমন অনেক বন্ধু আছেন যারা সব সময় অন্যদের নিয়ে সমালোচনা বা পরচর্চা করতে পছন্দ করেন। এমনকী অন্যদের নিয়ে গল্প সাজাতেও তাদের জুড়ি নেই। এদের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

অযাচিত বন্ধু : কিছু মানুষ আছেন যারা আপনার সত্যিকারের বন্ধু না হলেও কথাবার্তায় বা আচরণে আপনার কাছের বন্ধু হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। সাধারণত কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই তারা এমনটা করেন। নিজের স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। 

আবেগতাড়িত বন্ধু : কিছু বন্ধু আছেন যারা মানসিকভাবে আপনাকে সব সময় আঁকড়ে রাখতে চায়। তাই আপনার সঙ্গী বা অন্য কোনও বন্ধুর সঙ্গে আপনাকে দেখলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ ধরনের আবেগতাড়িত বন্ধুর কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনলাইন শপিং এর ৫ টি সুবিধা 0 278

অনলাইন শপিং সুবিধা গুলো

প্রযুক্তি মানুষের জন্য একবিংশ শতাব্দীতে নিয়ে এসেছে অনেক সংযোজন। অনলাইন শপিং বা ইকমার্স এর মধ্যে বেশ সংযোজন। আজকের দুনিয়ায় কে নেয় না ইকমার্স সুবিধা? এইতো কিছুদিন আগেও কে ভাবতে পেরেছিল অনলাইন শপিং সুবিধা পৌঁছে যাবে গ্রাম কিংবা লোকালয় পর্যন্ত? বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম না। এখন কেবল ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম নয়, প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে গেছে ই-কমার্স সুবিধা। আজ আমরা আলোচনা করব অনলাইন শপিং এর সুবিধা গুলো নিয়েই।

১। ২৪ ঘন্টা শপিং সুবিধাঃ অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহককে দিচ্ছে দিনের ২৪ ঘন্টাই কেনাকাটা করবার সুবিধা। ওয়েবসাইট, অ্যাপ কিংবা এফ-কমার্স থেকে বছরে ৩৬৫ দিন, দিনের ২৪ ঘন্টাই শপিং করতে পারছে ক্রেতারা।
২। স্বল্প সময়ে শপিং সুবিধাঃ কম সময় ব্যয় করে ঘরে বসেই পণ্য বাছাই করে কেনাকাটা করা যাচ্ছে অনলাইন শপিং এর কারণে। হোক রোদ, হোক বৃষ্টি, থাকুক না ট্রাফিক জ্যাম, অনলাইন শপিং এসে মানুষের সুবিধা বেড়েছে বহুগুনে। সময় বেঁচে যাচ্ছে আগের থেকে অনেক।
৩। অবিশ্বাস্য দামঃ আর দাম? ই-কমার্স সেবা মানেই পণ্যের দামে অফার কিংবা ডিসকাউন্ট। এর মধ্যে ইদানিংকালে যুক্ত হয়েছে প্রিপেমেন্ট ডিসকাউন্ট। ব্যাংক কার্ড কিংবা বিকাশ পেমেন্টেও ক্রেতারা পাচ্ছেন মূল্যছাড়। আর উৎসব বা ক্যাম্পেইন সময়কালে তো থাকে বিশাল ছাড়। যার ফলে, সব মিলিয়ে দামের দিক থেকে লাভবান হচ্ছেন ক্রেতারাই।

আরো দেখুনঃ বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম
৪। পণ্যের বৈচিত্র্যঃ ইকমার্স ওয়েবসাইটগুলো ক্রেতাদের দিচ্ছে সর্বাধিক পরিমাণ পণ্য বৈচিত্র্য। ভিন্ন ভিন্ন রঙ, ডিজাইন কিংবা বাহারি মানের পণ্যের বিচিত্রতা কেবল ই-কমার্সেই সম্ভব।
৫। হোম ডেলিভারি সুবিধাঃ সবচেয়ে জরুরী সুবিধা, অনলাইন শপিং আপনাকে দিচ্ছে ঘরে বসেই পণ্য পাবার নিশ্চয়তা। ই-কমার্সের হোম ডেলিভারি মানুষের কাছে পণ্যের দূরত্ব ঘুচিয়েছে অনেক। হ্যাপি অনলাইন শপিং!

বগলের দুর্গন্ধ কমানোর উপায় 0 451

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়

শরীরে বা বগলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে? সুগন্ধি সাবান বা শাওয়ার জেল দিয়ে গোসল করেও বগলের দুর্গন্ধ যাচ্ছে না? বাইরে বের হলে ব্যাগে মোবাইল, হেডফোনের পাশাপাশি পকেট ডিওডোরেন্ট রাখা একান্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে? তবে কেন এই দুর্গন্ধ হচ্ছে আর কীভাবে তা দূর করা যায় সে বিষয়ে জানা একান্ত জরুরি। শরীর কিংবা বগলের গন্ধ কমানোর উপায় জানব আজকে।  

যে কারণে বগলে দুর্গন্ধ হয় :

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গায়ে গন্ধ তৈরি হওয়া, বিশেষ করে বগলে গন্ধ হওয়া একটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এটি পিউবার্টির সময় শুরু হয়ে চলে আজীবন। তবে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়াটা একটা সমস্যা। শরীরে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে বিও এনজাইম। এই বিও এনজাইম এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকে। আর এই ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে আমাদের বাহুমূলে। সে কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। নানা রকম পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেও সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ গেলেও তা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না।

যা করলে বগলে দুর্গন্ধ থাকবে না:

আপনি যে খাবার খাচ্ছেন, সমস্যা তাতেই রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, আপনি যা খাচ্ছেন সেখান থেকে যৌগ ভেঙ্গে সরলীকরণ হয়, সেই পদ্ধতিতে সমস্যা থাকছে। খাবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকলে অনেকের গায়ে দুর্গন্ধ হয়। রেড মিট, ডিম, পেঁয়াজ, ব্রকোলি, রসুন ইত্যাদি খবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকে।

সব খাবারে আলাদা আলাদা রকম ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ সব খাবার খেলে নানা রকমের গন্ধ তৈরি হয়। ঘাম উৎপাদক সোয়েট গ্ল্যান্ডের ব্যাকটেরিয়াল ব্রেক ডাউনের ফলে দুর্গন্ধ হয়। এই ধরণের খাবার খেতে হলে খাওয়ার পরপর বেশি করে পানি খান। গায়ের গন্ধ দূর করতে আরো কিছু বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

১. বেশি অ্যালকোহল পান করলে আপনার স্বেদ গ্রন্থি অ্যাসিডিক হয়ে যায়। এর ফলে গায়ে দুর্গন্ধ হয়। যাদের গায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয়, তারা এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। অনেক সমস্য অতিরিক্ত মদ্যপানে মাইগ্রেন বা মাথাত পিছনে ব্যথাও হতে পারে।

২. মানসিক ভাবে উদ্বিগ্ন থাকলে দেহের অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই গ্রন্থি মানুষের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। এর ফলে সৃষ্ট স্ট্রেস দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং মানসিক চাপ বেশি নেবেন না।

৩. বয়ঃসন্ধিতে অনেকের শরীরেই দুর্গন্ধের সমস্যা হয়। কিন্তু অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও সমস্যা চলতে থাকলে বুঝতে হবে বড় কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের অনেক সময় গায়ে দুর্গন্ধ হয়।

এছাড়াও পড়ুনঃ শীতকালেও কি জুতা-মোজা পরলে পায়ে গন্ধ করে?

৪. অনেক সময় দেখা যায় পেট ভরে না খেলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। তাই পুষ্টিপূর্ণ করার দিকে নজর দিন।

Most Popular Topics

Editor Picks