কাজের ফাঁকেই সুস্থ থাকবেন যেভাবে 0 328

দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার উপায়

অফিসের ডেস্কে একটানা অনেকক্ষণ বসে কাজ করাটা কখনোই সুখকর হয় না। কেননা কম্পিউটারের পর্দায় টানা চোখ রাখলে তার প্রভাব পড়ে শরীরেও। প্রাথমিকভাবে সমস্যাটা বোঝা না গেলেও এটি সাধারণত টের পাওয়া যায় পরে। যন্ত্রণা বাড়তে থাকে ঘাড়, কাঁধ ও কোমর জুড়ে। কিন্তু সামান্য চেষ্টা করলেই এই যন্ত্রণা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এর জন্য দরকার কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট বিরতি। আর সেই সময়টায় চেয়ারে বসেই খুব সহজে করে ফেলা যায় কয়েকটি ব্যায়াম। ব্যায়ামগুলো সাধারণ মনে হলেও, শরীরের জন্য তা খুবই উপকারী।

এবার চলুন জেনে নিই কাজের ফাঁকে সুস্থ থাকার সেই কৌশলগুলো-

ঘাড়ের স্ট্রেচ : 

চেয়ারে বসেই ঘাড় ডান দিকে কাত করুন। তার পরে ডান হাত দিয়ে মাথাটা আলতো করে ডান দিকে চাপ দিতে হবে বা টানতে হবে। এই একই পদ্ধতিতে দুদিকেই তিন বার করে স্ট্রেচ করতে হবে। এতে ঘাড়ের কাছের পেশি দীর্ঘায়িত হয় এবং আরাম পাওয়া যায়।

চিন টাক :

থুতনিতে চাপ দিয়ে ঘাড় আস্তে আস্তে পেছন দিকে হেলাতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ব্যায়ামটার জন্য দেয়ালের সাহায্য পাওয়া যায়। ধরা যাক, দেয়ালে হেলান দিয়ে চেয়ারের ওপরে বসলেন। এ বার থুতনিতে চাপ দিয়ে মাথা ধীরে ধীরে দেওয়ালে ঠেকানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে হাত দিয়ে থুতনিতে চাপ দিলে চলবে না। ব্যায়ামটি করতে হবে তিন বার।

কাঁধ :

ঘাড়ের যন্ত্রণা ছড়ায় কাঁধেও। শুধু একটানা বসে কাজই নয়, রোজ ভারী ব্যাগ নেওয়াতেও ঘাড়ে ব্যথা হয়। আবার ভুল ভঙ্গিমায় বসে ঝুঁকে কাজ করার জন্যও কাঁধের পেশিতে সমস্যা হয়। কনকনে ব্যথা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে কাঁধের মুভমেন্ট রেঞ্জ অর্থাৎ হাত যতটা পর্যন্ত ঘুরতে পারে, সেই পরিসর কমে যায়। একে বলে ফ্রোজেন শোল্ডার। তাই ভালো থাকার জন্য রোটেটর পেশির স্ট্রেচ ও এক্সটার্নাল রোটেশন করতে হবে।

রোটেটর স্ট্রেচ :

ডান হাত বুকের কাছে আড়াআড়ি নিয়ে আসতে হবে। এর পরে বাঁ হাত দিয়ে ডান হাতের কনুইয়ে চাপ দিতে হবে। এর ফলে কাঁধের পেছনের দিকের পেশিতে চাপ পড়ে। ১০ সেকেন্ড করে দুহাতে তিন বার করে এই স্ট্রেচ করতে হবে।

এক্সটার্নাল রোটেশন :

এটি আসলে রোটেটর পেশির জোর বাড়ানোর ব্যায়াম। এর জন্য হাতে পানিভর্তি এক লিটারের বোতল নিন। ডান হাতে পানির বোতল ধরে হাতটাকে আর্মপিটের কাছে চেপে রাখতে হবে। এ বার কনুইটা সরিয়ে হাতটাকে বাইরের দিকে ঘোরাতে হবে। ১০ সেকেন্ড করে দুহাতে তিন বার করে করতে হবে এই ব্যায়াম।

কোমর :

ডেস্কে বসে কাজের সময়ে পিঠ টানটান করে রেখে কাজ করার সতর্কবাণী আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। কিন্তু এটি বিপদ ডেকে আনতে পারে। হিপে থাকে গ্লুটিয়াস ও হ্যামস্ট্রিং পেশি। স্ট্রেচিং করলে সেই পেশিতে ব্যথায় আরাম পাওয়া যাবে।

ফিগার ফোর স্ট্রেচ :

চেয়ারে বসে এক পা আর একটি পায়ের ওপরে তুলে দিলে ইংরেজি ৪-এর মতো দেখতে হয়। সেই অবস্থায় বসে শরীরটাকে সামনের দিকে ঝোঁকাতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে, মেরুদণ্ড যেন টানটান থাকে। এতে হিপের অংশে টান পড়বে। হিপের পেশি স্ট্রেচও হবে। দুই পায়ে ১০ সেকেন্ড করে তিন বার করে করতে হবে।

হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ :

চেয়ারে বসে একটি হাঁটু ভাঁজ রাখতে হবে। আর একটি পা সামনের দিকে সোজা করে ছড়াতে হবে অর্থাৎ বাঁ হাঁটু ভাঁজ থাকলে ডান পা ছড়াতে হবে। এতে হিপের হ্যামস্ট্রিং পেশিতে টান পড়বে। দুপায়ে তিন বার করতে হবে এই ব্যায়াম। এর ফলে কোমরে আরাম পাবেন। এর সঙ্গে জোর বাড়ানোর ব্যায়াম করতে পারেন।সেটা চেয়ারে বসে করা সম্ভব নয়।

হাঁটু :

হাঁটুর ব্যায়ামের জন্য কোমরের স্ট্রেচিং দুটি অবশ্যই করতে হবে। তার পাশাপাশি করতে হবে সিটেড লেগ এক্সটেনশন।

সিটেড লেগ এক্সটেনশন :

চেয়ারে বসে একটা পা মেঝের ওপরে রাখতে হবে। আর একটি পা টানটান করে সামনের দিকে ছড়াতে হবে। মেরুদণ্ড থাকবে সোজা। এ ভাবে ১০ অবধি গুণে পা পরিবর্তন করতে হবে। দুই পায়েই এই ব্যায়াম মোট ১০-১২ বার করতে পারেন। এতে থাইয়ের পেশির জোর বাড়ে।

রোজ অল্প সময় ধরে এই সমস্ত ব্যায়ামের নিয়মিত অভ্যাস শুধু ব্যথা কমায় না, শরীরও ভালো রাখে।টিভি দেখার ফাঁকে হোক বা অফিসের বিরতিতে, সুস্থতাই তাই চেয়ারে বসেই হোক শরীরচর্চা।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বগলের দুর্গন্ধ কমানোর উপায় 0 451

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়

শরীরে বা বগলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে? সুগন্ধি সাবান বা শাওয়ার জেল দিয়ে গোসল করেও বগলের দুর্গন্ধ যাচ্ছে না? বাইরে বের হলে ব্যাগে মোবাইল, হেডফোনের পাশাপাশি পকেট ডিওডোরেন্ট রাখা একান্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে? তবে কেন এই দুর্গন্ধ হচ্ছে আর কীভাবে তা দূর করা যায় সে বিষয়ে জানা একান্ত জরুরি। শরীর কিংবা বগলের গন্ধ কমানোর উপায় জানব আজকে।  

যে কারণে বগলে দুর্গন্ধ হয় :

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গায়ে গন্ধ তৈরি হওয়া, বিশেষ করে বগলে গন্ধ হওয়া একটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এটি পিউবার্টির সময় শুরু হয়ে চলে আজীবন। তবে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়াটা একটা সমস্যা। শরীরে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে বিও এনজাইম। এই বিও এনজাইম এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকে। আর এই ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে আমাদের বাহুমূলে। সে কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। নানা রকম পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেও সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ গেলেও তা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না।

যা করলে বগলে দুর্গন্ধ থাকবে না:

আপনি যে খাবার খাচ্ছেন, সমস্যা তাতেই রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, আপনি যা খাচ্ছেন সেখান থেকে যৌগ ভেঙ্গে সরলীকরণ হয়, সেই পদ্ধতিতে সমস্যা থাকছে। খাবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকলে অনেকের গায়ে দুর্গন্ধ হয়। রেড মিট, ডিম, পেঁয়াজ, ব্রকোলি, রসুন ইত্যাদি খবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকে।

সব খাবারে আলাদা আলাদা রকম ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ সব খাবার খেলে নানা রকমের গন্ধ তৈরি হয়। ঘাম উৎপাদক সোয়েট গ্ল্যান্ডের ব্যাকটেরিয়াল ব্রেক ডাউনের ফলে দুর্গন্ধ হয়। এই ধরণের খাবার খেতে হলে খাওয়ার পরপর বেশি করে পানি খান। গায়ের গন্ধ দূর করতে আরো কিছু বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

১. বেশি অ্যালকোহল পান করলে আপনার স্বেদ গ্রন্থি অ্যাসিডিক হয়ে যায়। এর ফলে গায়ে দুর্গন্ধ হয়। যাদের গায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয়, তারা এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। অনেক সমস্য অতিরিক্ত মদ্যপানে মাইগ্রেন বা মাথাত পিছনে ব্যথাও হতে পারে।

২. মানসিক ভাবে উদ্বিগ্ন থাকলে দেহের অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই গ্রন্থি মানুষের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। এর ফলে সৃষ্ট স্ট্রেস দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং মানসিক চাপ বেশি নেবেন না।

৩. বয়ঃসন্ধিতে অনেকের শরীরেই দুর্গন্ধের সমস্যা হয়। কিন্তু অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও সমস্যা চলতে থাকলে বুঝতে হবে বড় কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের অনেক সময় গায়ে দুর্গন্ধ হয়।

এছাড়াও পড়ুনঃ শীতকালেও কি জুতা-মোজা পরলে পায়ে গন্ধ করে?

৪. অনেক সময় দেখা যায় পেট ভরে না খেলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। তাই পুষ্টিপূর্ণ করার দিকে নজর দিন।

টিপসঃ অনলাইন শপিং হোক নিরাপদ ও সুরক্ষিত 0 445

নিরাপদ অনলাইন শপিং

নিরাপদ শপিং

একুশ শতকে প্রযুক্তির কাছ থেকে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অনলাইন শপিং সুবিধা। আর বর্তমান সময়ে সারা পৃথিবী জুড়ে অনলাইন শপিং করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর। অনলাইন শপিং আপনাকে দিবে ঘরে বসে রোদ, বৃষ্টি আর ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে দোকান ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করার বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা থেকে চির মুক্তি। ২৪ ঘন্টার যে কোন সময় আপনার মোবাইল কিংবা কম্পিউটার দিয়েই পণ্য পছন্দ করে অর্ডার করে ঘরেই পেতে পারেন সরাসরি হোম ডেলিভারি। তবে নিরাপদে অনলাইন শপিং করতে গেলে আপনাকে জানতে হবে বেশ কিছু কথা, থাকতে হবে কিছুটা সতর্কও।

দেখে নেয়া যাক কিভাবে আপনার অনলাইন শপিং হবে ১০০% নিরাপদ ও সুরক্ষিত

  • ইউআরএল টি “https” কিনা এবং সেই সাথে এড্রেস বারের প্যাডলক আইকন দেখে নিন। আপনার ভিজিট করা সাইটটি নিরাপদ কিনা এ সম্পর্কিত তথ্য দিবে এসব আইকন।
  • সবসময় দারাজ, আলীবাবা কিংবা আলী এক্সপ্রেস এর মত বিশ্বমানের সাইট থেকে শপিং করা উচিত, যাতে আপনি সুনিশ্চিত থাকতে পারেন যাতে আপনি কোন সমস্যায় না পড়েন। সঠিক ভাবে ইউআরএল লিখুন। “যোগাযোগ করুন” কিংবা ‘Contact us” অংশ চেক করে দেখুন যে, কোম্পানীর নাম, ঠিকানা ও কল সেন্টার নম্বর ঠিক আছে কিনা।

  • কোন পণ্যের দাম যদি একেবারে হিসেবের থেকেও কম মনে হয়, সেক্ষেত্রে একটু সচেতনতার সাথে ভেবে শপিং করা উচিত। এক্ষেত্রে কল সেন্টারে ফোন করে কিংবা ই-মেইল করে নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন।
  • পপ-আপ অ্যাডে ক্লিক না করা ভালো। কারণ এটা অনেক সময় আপনাকে ক্ষতিকর কোন সাইটে রি-ডিরেক্ট করে দিতে পারে।
  • একেবারে ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার না করা ভালো, যেমন সামাজিক সিকিউরিটি নাম্বার ইত্যাদি।
  • ওয়েবসাইটটির ফেরত নীতিমালা ও অনলাইন শপিং এর খরচ সম্পর্কিত তথ্যাদি পরীক্ষা করে নিন।
  • প্রতারণা এড়াতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সবসময় অনলাইনে পণ্য ক্রয় করা উচিত। বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডেই স্টেটমেন্ট পাবার ৩০ দিনের মধ্যে কেনাকাটার সময় প্রতারণা হলে রিপোর্ট করার সুবিধা থাকে।
  • হাই এন্ড বিলাসবহুল পণ্যের ক্ষেত্রে, ভাল পণ্য হোম ডেলিভারির নিশ্চয়তা পেতে সর্বদা আসল/অফিশিয়াল রিটেইলার বা সেলার থেকে ক্রয় করুন, থার্ড পার্টি(Third Party) থেকে নয়। এমনটি হলে খারাপ পণ্য পাবার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।
  • কোন অনলাইন রিটেইলারদের সাথে যখন একাউন্ট তৈরি করবেন তখন অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। প্রত্যেক একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভিন্ন ভিন্ন হওয়া উচিত। এজন্য দেখে নিতে পারেন অনলাইনে কার্ড পেমেন্ট নিরাপদ কেন এবং কোন প্রকার অনলাইন ব্যাংকিং কিংবা লেনদেন কখনই পাবলিক ওয়াই-ফাই কানেকশনে করবেন না।

  • ই-মেইল থেকে আসা কোন লিংকে ক্লিক করার আগে সাবধান হোন। অনেক সময় এগুলো ভয়ানক হতে পারে। সন্দেহ হলে ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করবেন না। সাধারণত এসব লিঙ্ক থেকেই ব্যক্তিগত একাউন্টের তথ্য, পাসওয়ার্ড কিংবা ব্যাংকিং লেনদেন ও কার্ড নাম্বার হাতছাড়া হয়ে যায়। অথবা এমন কোন লিংকে রি-ডিরেক্ট হয়ে চলে যেতে পারে, যেখান থেকে পাসওয়ার্ড চিরতরে হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এমন কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে সাইটটি নতুন উইন্ডো ওপেন করে “Contact Us” পোর্টালে গিয়ে ই-মেইল পাঠিয়ে রাখুন।

Most Popular Topics

Editor Picks