অফিসেই হোক স্বাস্থ্যকর ডায়েট | সঠিক ডায়েট চার্ট ২০২১ 0 378

সঠিক ডায়েট চার্ট এক নজরে

আজকের দিনে বেশির ভাগ মানুষ করপোরেট দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে আট থেকে দশ ঘণ্টা কাজ করাই এখন সবার নিয়মিত রুটিন। তাই সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার কোনোটাই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হয়ে ওঠে না। এমনকি সপ্তাহের শেষে একদিনের ছুটিতে ব্যায়াম বা জিম কোনোটা করতেও মন চায় না।

তাই শরীরের হাজারও সমস্যা বাড়িয়ে নিজেকে শয্যাশায়ী না করতে চাইলে জেনে নেই-অফিসে সারাদিনের ব্যস্ততার মধ্যে কীভাবে সঠিক খাদ্যগ্রহণ করে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়।

বাড়ির বানানো খাবার

শরীর সুস্থ রাখা তো বটেই পকেট সুস্থ রাখতেও বাড়ির বানানো খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা বাহিরে থেকে যে সব খাবার কিনে খাই, তা বেশিরভাগ সময়েই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয়। ফলে শরীর তো খারাপ হয়ই, সঙ্গে পকেটও ফাঁকা হয়। তাই বাড়ির পরিষ্কার পাত্রে পরিমিত মশলায় বানানো খাবারই অফিসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

ডেস্কে পানির বোতল

আমাদের বহুবিধ রোগ সারানোর অন্যতম উপায় হলো প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। সারাদিন কাজের চাপের মধ্যেও শরীর যাতে সতেজ থাকে তার জন্য সঠিক পরিমাণে পানি খাওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ, পানির অভাবে ডিহাইড্রেশন হলে কাজ করার ক্ষমতা তো কমেই যায়, একইসঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির সমস্যা এবং মাংসপেশীর নানা সমস্যা দেখা দেয়।

বাদাম রাখুন স্ন্যাক্সে

আমরা নিজেরাও জানি না কখন হঠাৎ করে আমাদের খিদে পায়। অন্যদিকে অফিসের কাজের চাপে পেট ভরে খাবার খাওয়ারও সময় হয় না। তাই চটজলদি হাতের কাছে থাকে তেলেভাজা চিপস নয়তো কোল্ড ড্রিঙ্কস। এর ফলে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়। তাই কাজের চাপেও শরীরকে সুস্থ রাখতে চাইলে বাদ দিতে হবে তৈলাক্ত খাবার। বাদামে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। তাই যখন-তখন খিদে মেটাতে ব্যাগে রাখাই যায় বাদাম ও ছোলা জাতীয় পুষ্টিকর খাবার।

পরিমাণ মতো ফল খান

ফলের মধ্যে উপস্থিত ফাইবার শরীরের জন্য যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি শরীরকে ভালো রাখতে ফল খাওয়া একান্ত জরুরি। শরীরকে সব সময় ফিট রাখতে তাই প্রত্যেকেরই ফল খাওয়া উচিত। এ ছাড়া প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের সঙ্গে পরিমাণ মতো ফল আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

ঝটপট ওটমিল

কাজের চাপে যখন খাওয়ার সময় থাকে না, তখন পেট ভরানোর জন্য সব থেকে উপযোগী হলো ওটমিল। সাধারণ ওট বাদাম এবং শুঁকনো ফলের সঙ্গে খেলে পেটও ভরে আবার শরীরও সুস্থ থাকে। এ ছাড়া ওট আমাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক রাখতে সাহায্য করে।

জাঙ্ক ফুড বাদ দিন

জাঙ্ক ফুড আমাদের শরীর শুধু নয়, আমাদের মানসিক দিক থেকেও দুর্বল বানিয়ে দেয়। চটজলদি জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ফাস্ট ফুড আমাদের দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এইসব খাওয়ার ফলে আমাদের মধ্যে স্থুলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, দাঁতের সমস্যা দেখা দেয়। তাই সুস্থ থাকতে হলে সবার আগে জাঙ্ক ফুডকে বিদায় জানাতেই হবে।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাইগ্রেনঃ মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার 0 383

মাইগ্রেন

মাথাব্যথা মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। আর আমাদের চারপাশে মাথাব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যা অধিক। মাথাব্যথা মূলত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি – এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রাথমিক মাথাব্যথা হলো সেগুলো, যা অন্য কোনো রোগের কারণে হয় না। প্রাথমিক মাথাব্যথার মধ্যে আছে মাইগ্রেন, টেনশন মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক, ট্রাইজিমিনাল অটোমেটিক সেফালালগিয়াস অন্যতম।

মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে সাধারণত ৪ থেকে ৭১ ঘণ্টা ধরে মাথায় ব্যথা হতে থাকে। এ ব্যথার অনুভব অনেকটা ছুরিকাঘাতের মতো। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে আছে বমি বমি ভাব। এ ব্যথার সঙ্গে আলো ও শব্দের সংবেদনশীলতার সম্পর্ক আছে। কাজেই মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কম আলোময় ও শব্দহীন জায়গায় থাকতে পারলে আরাম পাওয়া যায়।

গবেষকেরা মনে করেন, মাইগ্রেন অ্যাটাকের কারণ হলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। আবার জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যে কারণগুলোর জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, নারীদের হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুম হওয়া, মদ্যপান, ধুমপান কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

মাইগ্রেন প্রতিকার ও খাদ্যাভাস পরামর্শ

আমাদের জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আনলে মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে মাইগ্রেন প্রতিকার করা সম্ভব।

কখনো সকালের নাশতা অবহেলা করা যাবে না, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না, প্রতিবেলা সুষম খাবার খেতে হবে এবং প্রতিদিন শরীর ও চোখের ব্যায়াম করতে হবে।

কাঠবাদাম, কাঠবাদামের দুধ, পার্সলিপাতা, মৌরি, রসুন, আদা ও তাজা আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রতিদিন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, রিবোফ্লোবিন (ভিটামিন বি২), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায়ঃ বাদ দিতে হবে কিছু খাবার

অ্যামাইনো অ্যাসিড টাইরামিনযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে- প্রসেস করা মাংস, মাখন, হার্ড চিজ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, এভোকাডো, কলা, পাকা আম, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, টমেটো, রাসবেরি, চকলেট, রেড প্লাম, ইস্ট, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।

অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার এবং অ্যাসিডিটি তৈরি হয়, সে রকম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ধারণা করা হয় যে অ্যাসিডিটির সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার গভীর সম্পর্ক আছে। অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান আপনি নিজে নিজেই করে ফেলে মাইগ্রেন থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

এই ৫ প্রকার সবজিতে কমবে শরীরের ওজন, ফিট থাকবে শরীর 0 461

যেসব সবজী ওজন কমায়

অতিরিক্ত ওজন নানা রোগের কারণ। তাই বর্তমানে ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য অনেকেই খাবার গ্রহণে বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু এই নিয়ম মানতে গিয়ে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে দিলে চলবে না। শরীর সুস্থ রাখতে হলে পুষ্টির বিকল্প নেই।

আর এজন্য স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে গেলে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে শাক-সবজির ওপর। এমন পাঁচটি সবজি রয়েছে যেগুলো অতিরিক্ত ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক।

১। পালংশাক: এই সবুজ সবজি নানা ধরনের পুষ্টিগুণে ঠাসা। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাসিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে। পালংশাকে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। পালংশাক শুধু যে ওজন কমাতে সহায়তা করে তাই নয়, টাইপ- ২ ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ এবং যেকোনও ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়।

২। ব্রোকোলি: ব্রোকোলিকে নিউট্রিয়েন্ট পাওয়ারহাউস বলা যেতে পারে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং আয়রন রয়েছে। ব্রোকলিতে আছে প্রচুর ফাইবার এবং ক্যালোরি কাউন্ট বেশ কম। সেই কারণে ওজন কমাতে অত্যন্ত উপকারী এই সবজি।

৩। ক্যাপসিকাম: এর মধ্যে আছে ভিটামিন সি, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন ই, বি৬ এবং ফলিত। ক্যাপসিকাম রান্না করা বেশ সহজ এবং এটি সহজেই অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়। রঙিন এই সবজিতে পানির পরিমাণও বেশি। ক্যাপসিকাম আমাদের মেটাবলিজমের হার বাড়ায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪। টমেটো: টমেটোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লাইকোপিন। টমেটো ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। পাশাপাশি নিয়মিত টমেটো খেলে বহু ক্রনিক অসুখের থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। আপনি তরকারিতে টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি করেন, এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর।

৫। মিষ্টি আলু: দুটো বড় মিলের মাঝে হালকা কিছু খেতে হলে স্ন্যাক হিসেবে আলু দারুণ উপকারী। মিষ্টি আলুতে প্রচুর ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্ব আছে। এটি ত্বকের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী। গোল আলুর বদলে আপনি মিষ্টি আলু খেতে পারেন।

Most Popular Topics

Editor Picks