যেসব সবজি খেলে মেদ কমবেই 0 398

মেদ কমানোর সবজি

পেটে মেদ শুধু সৌন্দর্য নষ্ট করে না, এর কারণে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, রক্তচাপের মতো অসুখও হয়। ডায়েট, শরীরচর্চা এগুলো মেদ কমাতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে এমন খাবার যা খেলে মেদ দূরে থাকবে।

পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংয়ের মতে, ‘মেদ কমাতে গেলে শুধু ব্যালান্স ডায়েট নয়, পাতে রাখতে হবে এমন কিছু সবজি, যা ক্যালোরি কাউন্ট কমায়, হজমে সাহায্য করে ও সার্বিকভাবে মেদ ঝরায়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে মেদ কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার –

মাশরুম:

মাশরুম রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ছাড়া এই খাবার প্রোটিনে ঠাসা। শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি জমা রোধ করতে পারে সহজেই।

শাক:

বিভিন্ন শাক ও সবুজ পাতা পেটের মেদকে জব্দ করতে পারে দ্রুত। পুষ্টিবিদদের মতে, যে সব খাবারে পেটের চর্বি ও দেহের মেদ কমে, শাক তাদের মধ্যে অন্যতম। এর ক্যালোরি কাউন্টও খুব কম কিন্তু এই খাবার অনেকেরই হজমের সমস্যা করে, তাই হজমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিমাণ বুঝে শাক খান।

গাজর:

কম ক্যালোরির খাবার ও মেদ কমাতে পারে- এই দুই কারণেই মেদ ঠেকানোর খাবারে গাজর থাকবে প্রথম সারিতে। ফাইবারে ঠাসা গাজরের রস নিয়ম মেনে খেতে পারলে কমবেই ভুঁড়ি। ওজন ঝরিয়ে চেহারাকে উজ্জ্বল করতে পারে এই খাবার।

ব্রকোলি:

এই সবজিতে যেমন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের পরিমাণ প্রচুর, তেমনই এতে ফাইবার থাকে। ফটোকেমিক্যালে ভর্তি এই সবজিতে বিভিন্ন খনিজ লবণ ও ভিটামিন থাকে। তাই ব্রকোলিতে ভরসা রেখে ঝরান মেদ।

শশা:

এই ফলের বেশির ভাগটাই পানি। গোটাটাই ফাইবার আর পানিতে ভর্তি। তাই ডিটক্সিফিকেশন তো হয়ই  সঙ্গে ফাইবারের আধিক্যে খিদেও কমায়। শরীরের মেদ কমাতে তাই মেনুতে রোজ রাখুন শশা। টক দইয়ের সঙ্গত পেলে এই ফল আরও ভাল কাজ করে। সূত্র: আনন্দাবাজার পত্রিকা

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

তালমাখনার উপকারিতা ও ভেষজ গুণাবলি 0 2051

আমরা সবাই কি তালমাখনার উপকারিতা ও ভেষজ গুনাবলি সম্পর্কে জানি? তালমাখনা গাছ থেকে পাওয়া বীজ সেবন করলে বিভিন্ন শারীরিক দুর্বলতা নিরাময় করা যায়।

তালমাখনা গাছঃ তালমাখনা একটি অতি উৎকৃষ্ট ভেষজ ওষুধ। তালমাখনা (Talmakhana) গাছ সাধারনত ৫০ সে.মি. থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। এটির  কান্ড হতে বহু শাখা-প্রশাখা বের হয়। ফুল উজ্জ্বল বেগুনী লাল কিংবা বেগুনী সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। বীজ ছোট, গোলাকৃতির, দেখতে অনেকটা তিলের মত, তবে বীজের বর্ণ গাড় খয়েরী। বীজগুলো পানিতে ভিজালে চট চটে কিংবা লোদ বের হয়।

জেনে নেই তালমাখনা সম্পর্কিত কিছু মূল্যবান তথ্য

  • প্রচলিত নামঃ কুলেখাড়া
  • ইউনানী নামঃ তালমাখনা
  • আয়ুর্বেদিক নামঃ কোকিলাক্ষা
  • ইংরেজি নাম: Star Thorn
  • বৈজ্ঞানিক নামঃ Hygrophyla auriculata (Sch.) Heyne
  • বৈজ্ঞানিক পরিবারঃ Acanthaceae

তালমাখনা কোথায় পাওয়া যায়ঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন নিম্নভূমি অঞ্চলে যেখানে বছরের কিছু সময়ের জন্য পানি থাকে সেখানে পাওয়া যায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ অগ্রহায়ন – পৌষ মাসে ফুল ও ফল হয়। বীজ থেকে চারা হয়।

তালমাখনার রাসায়নিক উপাদানঃ ভূ-উপরিস্থ অংশে অ্যালকালয়েড, ফাইটোস্টেরল, স্টিগমাস্টেরল, লুপিয়ল, উদ্বায়ী তেল ও হাইড্রোকার্বন; ফুলে এপিজেনিন এবং বিচিতে তেল ও এনজাইম বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ কুলেখাড়া বীজ।

তালমাখনা এর ভেষজ গুণাবলি

  • তালমাখনা গুনাগুনঃ পুষ্টিকারক, শুক্রবর্ধক, প্রফুল্লতা আনয়নকারক। লিউকোরিয়া, শুক্রমেহ, যৌনদুর্বলতা ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায়।
  • তালমাখনার বিশেষ কার্যকারিতাঃ হজমকারক, বায়ু নিঃসারক, পাকস্থলীর ব্যথা নিবারক।

বিশেষ রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতি

  • রোগ: দেহের পুষ্টি সাধন ও সাধারন দুর্বলতা
    ব্যবহার্য অংশঃ বীজচূর্ণ
    মাত্রাঃ ৩ গ্রাম
    খাওয়ার নিয়মঃ তালমাখনা বীজ চূর্ণের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ শতমূলী চূর্ণ মিশিয়ে দুধসহ প্রত্যহ সকালে খালিপেটে এবং রাত্রে শয়নকালে সেব্য।
  • রোগ: শুক্রমেহ ও লিউকোরিয়া
    ব্যবহার্য অংশঃ বীজচূর্ণ
    মাত্রাঃ ৩ গ্রাম
    খাওয়ার নিয়মঃ চূর্ণের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ তেঁতুল বীজ চূর্ন মিশিয়ে প্রত্যহ ২ বার দুধসহ সেব্য।
  • রোগ: যৌন ও স্নায়ুবিক দুর্বলতা
    ব্যবহার্য অংশঃ বীজচূর্ণ
    মাত্রাঃ ৩ গ্রাম
    খাওয়ার নিয়মঃ  চূর্ণের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ অশ্বগন্ধা চূর্ণ ও ৩ চা চামচ মধু মিশিয়ে প্রত্যহ ২ বার সেব্য।

তালমাখনা খাওয়ার নিয়মঃ থাকতে হবে সতর্কও

তালমাখনা নির্দিষ্ট মাত্রার অধিক সেবন করা সমীচীন নয়। কারণ, এতে পেটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

মানবদেহের জন্য অতি উপকারী তালমাখানার দামও কিন্তু খুব বেশি না, বাংলাদেশের প্রায় সকল জনপ্রিয় অনলাইন শপিং মলেই তালমাখানা পাওয়া যায়, আর অর্ডার করে ঘরে বসেই নিতে পারেন তালমাখনা হোম ডেলিভারি।

মাইগ্রেনঃ মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার 0 383

মাইগ্রেন

মাথাব্যথা মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। আর আমাদের চারপাশে মাথাব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যা অধিক। মাথাব্যথা মূলত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি – এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রাথমিক মাথাব্যথা হলো সেগুলো, যা অন্য কোনো রোগের কারণে হয় না। প্রাথমিক মাথাব্যথার মধ্যে আছে মাইগ্রেন, টেনশন মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক, ট্রাইজিমিনাল অটোমেটিক সেফালালগিয়াস অন্যতম।

মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে সাধারণত ৪ থেকে ৭১ ঘণ্টা ধরে মাথায় ব্যথা হতে থাকে। এ ব্যথার অনুভব অনেকটা ছুরিকাঘাতের মতো। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে আছে বমি বমি ভাব। এ ব্যথার সঙ্গে আলো ও শব্দের সংবেদনশীলতার সম্পর্ক আছে। কাজেই মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কম আলোময় ও শব্দহীন জায়গায় থাকতে পারলে আরাম পাওয়া যায়।

গবেষকেরা মনে করেন, মাইগ্রেন অ্যাটাকের কারণ হলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। আবার জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যে কারণগুলোর জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, নারীদের হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুম হওয়া, মদ্যপান, ধুমপান কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

মাইগ্রেন প্রতিকার ও খাদ্যাভাস পরামর্শ

আমাদের জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আনলে মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে মাইগ্রেন প্রতিকার করা সম্ভব।

কখনো সকালের নাশতা অবহেলা করা যাবে না, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না, প্রতিবেলা সুষম খাবার খেতে হবে এবং প্রতিদিন শরীর ও চোখের ব্যায়াম করতে হবে।

কাঠবাদাম, কাঠবাদামের দুধ, পার্সলিপাতা, মৌরি, রসুন, আদা ও তাজা আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রতিদিন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, রিবোফ্লোবিন (ভিটামিন বি২), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায়ঃ বাদ দিতে হবে কিছু খাবার

অ্যামাইনো অ্যাসিড টাইরামিনযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে- প্রসেস করা মাংস, মাখন, হার্ড চিজ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, এভোকাডো, কলা, পাকা আম, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, টমেটো, রাসবেরি, চকলেট, রেড প্লাম, ইস্ট, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।

অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার এবং অ্যাসিডিটি তৈরি হয়, সে রকম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ধারণা করা হয় যে অ্যাসিডিটির সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার গভীর সম্পর্ক আছে। অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান আপনি নিজে নিজেই করে ফেলে মাইগ্রেন থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

Most Popular Topics

Editor Picks