এড়িয়ে চলা উচিত যেসব বন্ধুদের 0 2136

খারাপ বন্ধু থেকে দূরে থাকুন

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, আড্ডা, খেলার সঙ্গী, অফিসে এমনকী রাস্তাঘাটে পরিচয়ের পরও অনেকে বন্ধু হয়ে যায়। তবে সব বন্ধুই কি সত্যিকারের বন্ধু হন? 

বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে যান। কেউ বা শত্রুর চেয়েও খারাপ হন। বন্ধুত্বের সম্পর্ক সবসময় একরকম থাকে না। ব্যস্ততা বা জীবনের নিয়মে দিনে দিনে তা পরিবর্তিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সম্পর্ক যদি বিষাক্ত হয়ে ওঠে তখন তা মেনে নেওয়া অনেকসময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে সম্পর্কে তিক্ততা আসার আগে কিছু লক্ষণ দেখ ক্ষতিকর বন্ধুকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত। যেমন –

কথা না রাখা বন্ধু : কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা, গেট টুগেদার বা পিকনিকে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিলেও শেষ মুহূর্তে কথা রাখতে পারেন না কেউ কেউ। এরা বেশিরভাগ সময় বন্ধুর সময়ের মূল্য দেন না। বারবার একই ঘটনা ঘটলে এমন বন্ধু থেকে দূরে থাকা উচিত। সুবিধাবাদী বন্ধু : অনেকেরই বন্ধু তালিকায় এমন কেউ কেউ আছেন যারা স্বার্থের জন্যই বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। দেখা যায়, এদের নিয়ে কোথাও খেতে বসলে সব সময় খাবারের বিল আপনাকেই দিতে হচ্ছে। এমন বন্ধুর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

হতাশ বন্ধু : সবার জীবনেই কোনও না কোনও সময় হতাশা বা খারাপ সময় আসে। কিন্তু অনেকে আছেন পরিস্থিতি পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে সব সময় নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। এ ধরনের বন্ধুর সঙ্গে বেশিদিন মিশলে  আপনার মধ্যেও নেতিবাচক ভাব চলে আসবে। এ কারণে এমন বন্ধুদের থেকে দূরে থাকা উচিত। 

প্রতিযোগী বন্ধু : এমন অনেকেই থাকেন যারা সবসময় বন্ধুর চেয়ে জীবনে এগিয়ে থাকাতে প্রতিযোগী মনোভাব নিয়ে থাকেন। এ জন্য তারা প্রয়োজনে অনৈতিক কাজ করতেও দ্বিধা করেন না। এ ধরনের বন্ধু থেকেও দূর থাকা উচিত। 

নিয়ন্ত্রক বন্ধু : কিছু বন্ধু আছেন, যারা সবসময় আপনাকে বা অন্য বন্ধুদের চিন্তাধারা, সিদ্ধান্ত এমনকী কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতে চান। এরা অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করতে বা দিক নির্দেশনা দিতেই পছন্দ করেন। একটা পর্যায়ে এমন বন্ধুরা আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আপনাকে কোনও কাজ করতে বাধ্য করবেন। তাই এসব বন্ধুর কাছ থেকে দূরে থাকুন।

পরচর্চাকারী বন্ধু : এমন অনেক বন্ধু আছেন যারা সব সময় অন্যদের নিয়ে সমালোচনা বা পরচর্চা করতে পছন্দ করেন। এমনকী অন্যদের নিয়ে গল্প সাজাতেও তাদের জুড়ি নেই। এদের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

অযাচিত বন্ধু : কিছু মানুষ আছেন যারা আপনার সত্যিকারের বন্ধু না হলেও কথাবার্তায় বা আচরণে আপনার কাছের বন্ধু হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। সাধারণত কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই তারা এমনটা করেন। নিজের স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। 

আবেগতাড়িত বন্ধু : কিছু বন্ধু আছেন যারা মানসিকভাবে আপনাকে সব সময় আঁকড়ে রাখতে চায়। তাই আপনার সঙ্গী বা অন্য কোনও বন্ধুর সঙ্গে আপনাকে দেখলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ ধরনের আবেগতাড়িত বন্ধুর কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

আরো পড়ুনঃ এই ৫ প্রকার সবজিতে কমবে শরীরের ওজন, ফিট থাকবে শরীর

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পাকা আম – পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশী ফল 0 4223

পাকা আমের পুষ্টিগুন

চলছে আমের মৌসুম। আর পছন্দের তালিকায় সবারই কমবেশি আম পছন্দ। কাঁচা আম ও পাকা আম উভয়ই যেমন মজাদার, ঠিক তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। স্বাদে গন্ধে ভরা এই ফলটি সংরক্ষণ করে রাখা যায় বিভিন্ন উপায়ে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমের শরবত বা জুস, মোরব্বা, আচার, জ্যাম, জেলি, আমসত্ব ইত্যাদি।

কাঁচা/ পাকা আমে আছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ ইত্যাদি। নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর আম, যা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগাতেও সহায়তা করে। এর পুষ্টি উপাদান শরীরের নানাভাবে শক্তি যুগিয়ে ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে মানবদেহ সুস্থ রাখতে সহায়ক।

পাকা আমে কি কি উপদান আছে?

ক্যারোটিনের মাত্রা পাকা আমে বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এতে ১.৩ গ্রাম আয়রন, ১৪ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ১৬ মি.গ্রা. ফসফরাস, ১৬ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ০.৯ মি.গ্রা. রিভোফ্লেভিন এবং ০.০৮ মি.গ্রা. থায়ামিন থাকে। এছাড়াও পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-২। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.১ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১ ও ০.০৭ মি.গ্রা. বি-২ রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ থাকে। এতে কিছু পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। যেমন- প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ১ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৭ গ্রাম ফ্যাট থাকে। আম শ্বেতসারের ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ২০ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

কাঁচা / পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা

আমের পুষ্টিগুন

* আমের ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে।

* এর পটাশিয়াম রক্ত স্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে।

* ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করে, হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে।

* কার্বোহাইড্রেট কর্মশক্তি যোগায়।

* আম কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

* আমের আয়রন অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।

* আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি।

* এই ফলের আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে।

* দেশী আম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের দেশী ফল যেমন, পাকা আম খাওয়া ঠিক নয়, এটা ভুল ধারণা। পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে পাকা আম খেতে পারেন।

খালি পেটে পাকা আম খাওয়া যাবে?
পাকা আমেও কিন্তু কৃত্রিম শর্করা থাকে। সকালে জলখাবারের সঙ্গে আম খাওয়া যাবে না। খালি পেটে আমের মতো মিষ্টি ফল খেলে তা এক লাফে রক্তে শর্করার পরিমাণ অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই জালখাবার খাওয়ার বেশ কিছু ক্ষণ পর বা বিকেলে আম খাওয়া যেতে পারে।

পাকা আম বেশি পরিমানে খেলে কি হয়?
অনেক বেশি পরিমাণে দেশী আম খেলে কিছু সমস্যাও হতে পারে। আমে চিনি ও ক্যালরি বেশি থাকার কারণে আপনার ওজন বাড়তে থাকবে। যেমন ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৬০ ক্যালরি আছে, ১ কেজিতে ৬০০, ৪ কেজিতে ২ হাজার ৪০০ ক্যালরি, যা হয়তো আপনার সারা দিনে শরীরের মোট ক্যালরির সমান।

এলাচ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 0 1491

এলাচ খাওয়ার উপকারিতা

এলাচ একটি জনপ্রিয় ও প্রাচীন মশলা, যা তার অপূর্ব সুগন্ধ এবং স্বাস্থ্যগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বাংলাদেশে এলাচ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে রান্না, পানীয় এবং ঔষধি হিসেবে। এই লেখায় আমরা এলাচ খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা এবং সম্ভাব্য অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব।

এলাচ খাওয়ার উপকারিতা:

  1. হজমশক্তি বৃদ্ধি: এলাচ পেটের সমস্যা, যেমন অম্লতা, গ্যাস এবং বদহজম নিরাময়ে সাহায্য করে।
  2. মুখের স্বাস্থ্য: এলাচের অ্যান্টিসেপটিক গুণাগুণ মুখের ব্যাকটেরিয়া দূরীকরণে এবং মুখের দুর্গন্ধ নির্মূলে কার্যকরী।
  3. শ্বাসকষ্ট নিরাময়: এলাচ শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ পরিষ্কার করে এবং হাঁপানির উপসর্গ হ্রাস করে।
  4. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: এলাচে উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং দীর্ঘায়ু প্রদান করে।

এলাচ খাওয়ার অপকারিতা:

  1. অত্যধিক ব্যবহারে সমস্যা: এলাচ অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেটের সমস্যা যেমন পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
  2. অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া: কিছু মানুষের এলাচের উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে, যা চুলকানি এবং ফুসকুড়ি হতে পারে।
  3. ড্রাগ ইন্টারেকশন: কিছু ঔষধের সাথে এলাচের মিশ্রণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস করে।

এলাচ খাওয়ার নিয়ম কানুনঃ

১. পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ:

এলাচ খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণ মেনে চলা উচিত। সাধারণত, প্রতিদিন ১ থেকে ২টি এলাচ পর্যাপ্ত হতে পারে। বেশি পরিমাণে এলাচ গ্রহণ করলে পেটে সমস্যা হতে পারে।

২. চা বা কফিতে ব্যবহার:

চা বা কফির সাথে এলাচ মিশিয়ে গ্রহণ করা একটি জনপ্রিয় উপায়। এটি পানীয়কে সুগন্ধি এবং স্বাদ বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করে।

৩. খাবারে মিশ্রণ:

বিভিন্ন ধরণের খাবার, যেমন বিরিয়ানি, কারি, ডেজার্ট ইত্যাদিতে এলাচ ব্যবহার করা যায়। এটি খাবারের স্বাদ ও গন্ধ উন্নত করে।

৪. এলাচের চা:

এলাচ দিয়ে তৈরি চা পান করা শরীরের জন্য উপকারী। এটি ঠান্ডা, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে সাহায্য করে।

৫. মুখের স্বাস্থ্যের জন্য:

মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এলাচ চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এবং দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

৬. মশলা মিশ্রণে যোগ:

এলাচ বিভিন্ন মশলা মিশ্রণের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমন গরম মশলা। এটি খাবারের গন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।

সংক্ষেপে:

এলাচ আমাদের দৈনন্দিন রান্নার এক অপরিহার্য উপাদান যা তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য স্বীকৃত। তবে এর সঠিক ব্যবহার এবং পরিমাণ নির্ণয় জরুরি। এলাচ খাওয়ার আগে, এর সম্ভাব্য অপকারিতা সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।